ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৮ মাস ধরে কারাবাসে ট্রাক চালক কালাম ॥ অনাহারে পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার : মিথ্যা মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে মাসের পর মাস কারাবাস করছেন হতদরিদ্র ট্রাক চালক আবুল কালাম। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর অবর্তমানে তার স্ত্রী তিন কন্যা সন্তানসহ গোটা পরিবার অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে। পিতার অবর্তমানে তার ছবিই হচ্ছে তার অবুঝ সন্তানদের একমাত্র নিত্যসঙ্গি। পুত্রের শোকে শয্যাশয়ী হয়ে পড়েছেন তার বৃদ্ধ মা-বাবা। সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে কালামের পরিবারটি।
জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রাত সোয়া ১০ টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যেনের ১ নাম্বার গেইেটের সামনে রমনা পার্কের পশ্চিম পাশ থেকে ২১ হাজার ইয়াবা বড়িসহ মো. আরশাদ (৩২) , মো. রুবেল গাজী মুন্সি (২২) ও মো. রমজান মুন্সিকে (২৫) গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় ট্রাক চালক রহিম (৪৫) ও সহকারী মহসিন (৩৫) নামে দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। জব্দ করা হয় চট্ট মেট্রো ট-১১-৪৯৯৩ নম্বরের একটি ট্রাক ও ঢাকা মেট্রো এ-০৩-৫৯৫৫ নম্বরের একটি মোটর সাইকেল। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রেজাউল করিম বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা ( নং ১০ তারিখ-৯ .১২ .২০১৬ ) দায়ের করে। এতে গ্রেফতার হওয়া তিন ব্যক্তি ছাড়াও পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকে আসামী করা হয়।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৭ মার্চ ৭৫৭ নং স্মারকে এ মামলায় অভিযোগপত্র ( চার্জশিট ) দেয় তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এস আই আমিনুল ইসলাম। এতে গ্রেফতার হওয়া তিন ব্যক্তিসহ পাঁচজনকে আসামী করা হয়। কিন্তু নাটকীয়ভাবে ট্রাক চালক রহিমকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালামের পুত্র মো. আবুল কালাম (৩৭) কে অভিযোগপত্রে আসামী করা হয়। এতে তাকে পাঁচ নম্বর আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, জব্দ করা ট্রাক চট্টমেট্রো ট-১১-৪৯৯৩ নম্বর গাড়ির মালিক চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম ওরফে ডিপজল। একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম ড্রাইভারের সঙ্গে গাড়ির ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসছে ট্রাক মালিক ইব্রাহিমের। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম ও গাড়ির মালিক ইব্রাহিমের যোগসাজসে আবুল কালাম ড্রাইভারকে ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। পরে কর্ণফুলী থানার আরেকটি সাজানো মামলায় আবুল কালামকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শাহবাগ থানার ওই মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দীর্ঘ আটমাস ধরে কারান্তরীণ কালাম।
জানতে চাইলে আবুল কালামের স্বজনরা জানান, এই ঘটনার সঙ্গে হতদরিদ্র ট্রাক চালক কালাম কোনোভাবেই জড়িত নন। ট্রাক মালিক ইব্রাহিমের সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা থাকায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এই ঘটনার আগে সড়ক দুর্ঘটনায় হাত ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তাকে দীর্ঘদিন বাড়িতে বিশ্রামে থাকতে হয়েছে।
তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। আবুল কালাম দির্ঘদিন ধরে জেলে আটক থাকায় তিন অবুঝ সন্তান নিয়ে তিনি মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। তার স্বামী কোনো অপরাধ করেননি।
এ মামলার তদারক কর্মকর্তা জানান , গাড়ির মালিক ইব্রাহিম আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ঘটনার সময় তার গাড়ির চালক ছিলেন আবুল কালাম। এছাড়া তিনি আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তদন্তে তার নাম উঠে এসেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ