ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২৫ কোটি টাকা জমার শর্তে এমপি শওকত চৌধুরীর জামিন স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার : নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শওকত চৌধুরীকে ৫০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ২৫ কোটি টাকা জমা দেয়ার শর্তে হাইকোর্টের দেয়া জামিন দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
এমপি শওকত চৌধুরীর করা আপিলের শুনানি শেষে গতকাল রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দেন।
আদালতে শওকত চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। কমার্স ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।
আদেশের বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) এ আদেশ দিতে পারেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন সর্বোচ্চ আদালত। এ জন্য আদেশ স্থগিত করেছেন।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ৫০ দিনের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা জমা দেয়ার শর্তে এমপি শওকত চৌধুরীকে জামিন দিয়েছিলেন। এ সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দেয়া হলে জামিন বাতিল হবে বলে আদালতের রায়ে বলা হয়। তবে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর এই ৫০ দিনের গণনা শুরু হবে।
২০১৬ সালের ৮ ও ১০ মে শওকত চৌধুরীসহ ব্যাংকটির ৯ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় দুটি মামলা করে দুদক। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন ব্যাংকটির ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বংশাল শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুল গনি, চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার শিরিন নিজামী, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সফিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পানু রঞ্জন দাস, সাবেক ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইখতেখার হোসেন, সাবেক এসিস্ট্যান্ট অফিসার দেবাশীষ বাউল, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার ও বর্তমানে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আসজাদুর রহমান।
এরপর আগস্ট মাসে শওকত চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে নিম্ন আদালতও তার জামিন মঞ্জুর করেন।
অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে ২০১৬ সালের ৮ মে ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৫ এবং ১০ মে ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ২১৩ টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরীসহ ৯ জনের নামে দুটি মামলা করে দুদক। ২০১২ এর ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৭টি এলসি খুলে মেসার্স যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল, মেসার্স এগ্রো কেমিকেল লিমিটেড ও উদয়ন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি এ ঋণ জালিয়াতি করেন; পরে যা সুদে আসলে শত কোটি টাকার ওপরে চলে যায়।
এদিকে এই মামলার অপর আসামিরা গত বছর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রধান আসামি শওকত চৌধুরী জামিন পেয়েছেন। তাই তারাও জামিন পেতে পারেন। এরপর গত বছরের ২৪ নবেম্বর জামিন বাতিলে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ