ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সামাজিক আন্দোলন জোরদারের দাবি খুলনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছেই

খুলনা অফিস : নারী পুরুষে গড়ে ওঠা বন্ধনের মধ্য দিয়েই পরিবার ও সমাজের বিস্তৃতি। গড়ে উঠছে সমাজ সভ্যতা। পরিবারে নারী-পুরুষের উভয়ের অসামান্য অবদান। পুরুষের সাথে সাথে নারীরাও এগিয়ে চলছে। নারীরা আগে অনেকটা বন্দি জীবন যাপন করতো। সে বন্দিদশা থেকে  এখন বেরিয়ে আসছে। নারী সমাজের এই অগ্রগতি ও অর্জণ পরিবার এবং সমাজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এর পরও নারীর প্রতি সহিংসতা থেমে নেই। ধর্ষণ, অপহরণ ও পাচারের চেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বেশী। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। খুলনায় গত দু’ মাসে ৬৮টি নারী ও শিশু ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে জেলা ও নগরীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ৩৩টি। সেপ্টেম্বরে ঘটে ৩৫টি।
খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে জেলার ৯ উপজেলায়  ধর্ষণ ৪টি, আপহরণ ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৯টি ও পাচার ১টি। নগরীতে ধর্ষণ ২টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৪টি এবং আপহরণ ও পাচারের ঘটনা ঘটেনি। সেপ্টেম্বর মাসে ৯ উপজেলায় ধর্ষণ ৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৮টি, নারী ও শিশু পাচার ১টি এবং অপহরণ ঘটেনি। নগরীতে ধর্ষণ ৩টি ও নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ১৭টি।
সূত্র আরো জানায়, আগস্ট মাসে জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ফুলতলায় ধর্ষণ ১টি, ডুমুরিয়ায় ২টি ও পাইকগাছায় ১টি। অপহরণ কয়রায় ১টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। এর মধ্যে রূপসায় ৪টি, বটিয়াঘাটায় ১টি, তেরখাদায় ১টি, ফুলতলায় ২টি, ডুমুরিয়ায় ৩টি, দাকোপে ১টি, পাইকগাছায় ৬টি এবং কয়রায় ১টি। নারী ও শিশু পাচারকারী ডুমুুরয়ায় ১টি।
নগরীতে খুলনা সদর থানায় ১টি ও সোনাডাঙ্গা থানায় ১টি। নারী ও শিশু নির্যাতন ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। এর মধ্যে খুলনা থানায় ২টি, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ৪টি, খালিশপুর থানায় ৬টি, দৌলতপুর থানায় ১টি ও খানজাহান আলী থানায় ১টি।
ফুলতলায় সেপ্টেম্বর মাসে ধর্ষণ ১টি, ডুমুরিয়ায় ২টি, কয়রায় অপহরণ ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন রূপসায় আগস্টে ৪টি, বটিয়াঘাটায় ১টি, তেরেখাদায় ১টি, ফুলতলায় ২টি, ডুমুরিয়ায় ৩টি, দাকোপে ১টি, পাইকগাছায় ৬টি ও কয়রায় ১টি ঘটনা ঘটে।
নগরীর খুলনা থানা এলাকায় ধর্ষণ ১টি ও সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ২টি।  নারী ও শিশু নির্যাতন সদর থানায় ৫টি, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ১টি, হরিণটানা থানায় ১টি, খালিশপুর থানায় ৩টি, দৌলতপুর থানায় ৫টি, আড়ংঘাটা থানায় ১টি এবং খানজাহান আলী থানায় ১টি। অপহরণ ও নারী ও শিশু পাচার নেই। নগরীর চেয়ে জেলায় অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বেশী। যৌতুক, বাল্য বিয়ে, অল্প বয়সে মা হওয়া, মাদকে আসক্ত, পরকিয়া, শাশুড়ি-ননদের হাতেসহ বিভিন্ন কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে অভিযোগ আসলে তা নিস্পত্তি করা হয়। এদের কলোহ মিটিয়ে ফেলে সুখ ও আনন্দে দম্পত্তি বসবাস করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
সূত্র বলছে, এখনো নারীর জীবন নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনেক নারীর জীবন আধারে ঢাকা। আগের তুলনায় নির্যাতন অনেকটা কমে আসছে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মস্থালে নারী যৌন হয়রারির শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপে বলা হয়েছে বিবাহিত নারীর ৮৭শতাংশ স্বামীর মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়। নারীর অগ্রগতি হয়েছে। এর আড়ালে রয়েছে অনেক নির্যাতনের ঘটনা।
খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা জামিন বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধে সরকার নানা রকম ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীর জীবনের সকল গ্লানী দূর করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ