ঢাকা, মঙ্গলবার 31 October 2017, ১৬ কার্তিক ১৪২8, ১০ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনেই কাজ করছে ফারমার্স ব্যাংক

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : চতুর্থ প্রজন্মের বে-সরকারি ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঋণ বিতরণে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছে ফারমার্স ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনেই আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগতমান ও বাজার ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীলতা সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা, উপার্জন ক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতিও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদের এমন দাবির পক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ের তথ্য-উপাত্তই তার প্রমাণ ।
রাজধানীর গুলশানে ফারমার্স ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের আমানতকারীদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সব সময় ভাল গ্রাহক দেখে ঋণ দিতে প্রত্যেক শাখাকে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। ঋণ বিতরণ ও গ্রাহকের আমানত সুরক্ষার মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরও ভাল হবে বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন, আমরা পরিচালকদের সার্টিফিকেট দেখে ঋণ দিয়েছি। ফলে কোন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড প্রশ্রয় দেয় না ফারমার্স ব্যাংক। ব্যবস্থাপনায় কোন দুর্বলতা নেই বলেও দাবি অডিট কমিটির চেয়ারম্যান‘র।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়িক সফলতার বছর পার করেছে দেশের বেসরকারী খাতের চতুর্থ প্রজন্মের এই ফারমার্স ব্যাংক। গত বছরে ফারমার্স ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার চিত্র ছিল সন্তোষজনক। সম্পদের গুণগত মানও ছিল সন্তোষজনক। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ছিল মোটামুটি ভাল। উপার্জন ক্ষমতাও ছিল অনুরূপ। বছরজুড়ে তারল্য ছিল মোটামুটি ভাল।
ব্যাংকটির বাজার ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীলতা ছিল সন্তোষজনকও। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলি এ ব্যাংক কৃষি ঋণসহ সামগ্রিক ঋণ বিতরণ, আমানত গ্রহণ, রেমিটেন্স সংগ্রহ, রফতানি, খেলাপি ঋণ আদায় ও ব্যাংকের প্রসারসহ প্রায় সব সূচকেই গত বছর উন্নতি হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ফারমার্স ব্যাংক। এ খাতে ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ফারমার্স ব্যাংক প্রায় ৫০৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এ নিয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট বিতরণ হওয়া ঋণের মধ্যে এসএমই খাতে ফারমার্স ব্যাংক প্রায় ১ হাজার ২৪৪ কোটি ৫ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। ভবিষ্যতে এসএমই খাতে ঋণের আওতা আরও বাড়াতে চায় ব্যাংকটি। একইভাবে কৃষিভিত্তিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে এ খাতেও ফারমার্স ব্যাংকের ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
২০১৬ সালে কৃষি খাতে ৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ফার্মাস ব্যাংক। আমানত সংগ্রহে বিগত বছর অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে ফারমার্স ব্যাংক। বছরটিতে ব্যাংকের আমানত গ্রহণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। টাকার অংকে ১ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৮০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। এ নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের মোট আমানত সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৬৭৪ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত বছর মোট খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে আদায় হয়েছে। গত বছরের শুরুতে ২৭৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ থাকলেও বছর শেষে তা কমে ১৭১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। মন্দ ঋণের বিপরীতে মামলা করায় ঋণ আদায় আগের তুলনায় বেড়েছে।
চলতি বছর শেষে আদায়ের হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ব্যাংকটি মোট ৫২ শাখার মধ্যে ৩১টি লোকসানি শাখা রয়েছে। গ্রামের শাখাগুলো গ্রামীণ উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় এবং ঋণ বিতরণ ও আমানতের সমন্বয়ের কারণেই লোকসানি শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগামী জুনের মধ্যে সব শাখাই শতভাগ মুনাফায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফারমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) বলেন, আমাদের আমানতকারীদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সব সময় ভাল গ্রাহক দেখে ঋণ দিতে প্রত্যেক শাখাকে নির্দেশনা দেয়া আছে , তারা সে ভাবেই কাজ করছে। ঋণ বিতরণ ও গ্রাহকের আমানত সুরক্ষার মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরও ভাল হবে। তিনি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি গনমাধ্যমে ব্যাংকের নামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ,তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের কোন অনিয়ম , দূর্ণীতি হয়ে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃপক্ষ কিভাবে তাদের ক্যামেলস রেটিংয়ে ফারমার্স ব্যাংকের সামগ্রিক অবস্থা সন্তোষজনক বলে জানায় । সুতরাং , এই ব্যাংকের গ্রাহক ও আমানতকারীদের কোন প্রকার উদ্বে-উৎকন্ঠার কারন নেই । তাদের আমানত সুরক্ষিত আছেই । প্রতিটি গ্রাহকই আমাদের সম্মানীয় , তাদেরকে পেশাদারিত্বের সাথেই সার্ভিস দিচ্ছে ফারমার্স ব্যাংক ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ