ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চীনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না -রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত চুই তিয়ানকাই

১ নভেম্বর, ইন্টারনেট : ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি ‘এক্সক্লুসিভ ক্লাব’ গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় সুস্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এই মুহূর্তে চীনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক বিরল সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত চুই তিয়ানকাই এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভারতের কাছে উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রির জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন তার দেশের ভারত- কেন্দ্রিক নীতি নিয়ে সম্প্রতি যে বক্তব্য দেন এবং ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত চার পক্ষীয় সংলাপের যে কথা উঠেছে সে প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন চীনা দূত।
ভারতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগকে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা চীন ঠেকাও নীতি হিসেবে দেখছেন। এ প্রসঙ্গে চুই বলেন, ‘অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি করে ওই উদ্দেশ্য পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না। কেউ চীনকে ঠেকাতে পারবে, সে কথাও মনে করি না আমি।’
আগামী মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের আগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। চীনসহ পূর্ব এশিয়ায় ১০ দিনের সফরে বের হবেন ট্রাম্প। তার সফরসূচিতে আরো রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন।
চুই বলেন, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার ব্যাপারে চীন খোলামেলা। ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বহু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি বলেছেন যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুদেশকেই ধারণ করার মতো যথেষ্ঠ বড় প্রশান্ত মহাসাগর। অন্যদিকে চীন, ভারত ও জাপানের উন্নয়ন ধারণ করার মতো যথেষ্ঠ বড় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি মনে করি সকল পক্ষ উন্নত সম্পর্ক, উন্নত পারস্পরিক আস্থার জন্য সহায়ক হবে এমন কাজগুলোই করবে।’ ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক অচলাবস্থার উল্লেখ না করে চুই বলেন, দুই দেশের কারো জন্যই সংঘাত মঙ্গলজনক নয়। আমি মনে করি, দেশ দুটি জানে কিভাবে তাদের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষিত হবে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোরদার সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই অঞ্চলের যেকোনো দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক, এই অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গে বাইরের অঞ্চলের কোনো দেশের সম্পর্ক ‘জিরো-সাম গেম’ হবে না।
চীনকে লক্ষ্য করে ওই ইন্দো-মার্কিন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করছেন। চুই বলেন, ‘অন্য রাষ্ট্রের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এবং জাপান ও ভারতের ক্ষেত্রেও এই একই কথা সত্য।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ