ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে প্রভাষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার মামলা

নীলফামারী সংবাদদাতা: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ মহিলা কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার দায়ে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের নীরব ভুমিকার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার চড়াইখোলা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে হোসনে আক্তার জাহান মৌসুমী’র সাথে কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদখানা শাহপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম শাহ’র ছেলে ও কিশোরগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রভাষক আহাদ আলী শাহ’র ২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকলোভী আহাদ আলী ও তার পরিবার সদস্যরা মৌসুমীকে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এরই জেরে গত ৫ আগষ্ট রাতে এক সন্তানের জননী মৌসুমী স্বামী আহাদ আলী শাহ’র শারীরিক নির্যাতনের ফলে মারা যায়।
এ মৃত্যুরহস্য ধামাচাপার চেষ্টায় এলাকায় মৌসুমী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার প্রচারণা চালিয়ে প্রথমে মৌসুমীর মরদেহ রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার মৃত্যু অনেক আগে ঘটেছে। এ মৃত্যু’র দায়ভার এড়ানোর চেষ্টায় মৌসুমীর মরদেহ নিয়ে ঘাতক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে বলে রোগীর নাম খাতায় অন্তর্ভুক্ত করে। ভর্তির পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক অনেক আগেই সে মারা গেছে বলে ঘোষনা করলে তারা সু-কৌশলে জরুরী বিভাগ থেকে পালিয়ে যায়। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রোগী মৃত্যু’র কারণ কি? তা নিশ্চিত হতে রংপুর কোতয়ালী থানা পুলিশে খবর দেয় এবং মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে ময়না তদন্তের আবেদন করে মেীসুমীর বাবা। কোতয়ালী থানা পুলিশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়না তদন্ত করে।
ময়না তদন্ত শেষে মৌসুমী’র লাশ নিয়ে নিজ গ্রামের পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ