ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রথম দিনেই আয়কর মেলায় দর্শনার্থী ও করদাতাদের ভিড়

রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত জাতীয় আয়কর মেলার উদ্বোধন করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি -সংগ্রাম

# এবারই প্রথম কর কার্ড ও স্টিকার দেয়া হচ্ছে
শাহেদ মতিউর রহমান : প্রথম দিনেই জমে উঠেছে আয়কর মেলা। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁয় আয়কর মেলার প্রথম দিনেই ছিল দর্শনার্থী ও করদাতাদের প্রচুর ভিড়।  সকাল থেকেই করদাতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ভিড়। এদিকে এবার মেলায় তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর সংগ্রহ হয়েছিল দুই হাজার একশ ত্রিশ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, আগে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে মেলা অনুষ্ঠিত হলেও গত বছর থেকে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের নিজস্ব ভবনে হচ্ছে আয়কর মেলা। এটা এনবিআরের ৮ম আয়কর মেলা। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবার একযোগে আটটি বিভাগীয় শহরে সাতদিনব্যাপী, ৫৬টি উপজেলায় চারদিন, ৩৪টি উপজেলায় দুইদিন ও ৭১টি উপজেলায় (ভ্রাম্যমাণ) একদিনের আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন রাজস্ব ভবনে বৃহৎ পরিসরে আয়কর মেলা উদ্বোধন করা হয়। আয়কর মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় স্থাপিত ব্যাংকের বুথের সমানে করদাতাদের দীর্ঘলাইন। মেলার ই-টিআইএন, হেল্প ডেক্স, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ফটোকপিসহ প্রতিটি বুথের সমানে বিশাল জটলা। নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই নিজেদের কাজ সেরে নিচ্ছেন।
দর্শনার্থীদের কয়েকজন জানান, প্রথমবারের মতো কর দিচ্ছি। কর দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব মনে করে আমরা কর দিতে এসেছি। কয়েকজন জানান, ফরম পূরণে ঝামেলা হচ্ছে তবে খুব বেশি না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, মেলায় সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ভবিষতে করদাতাদের জন্য কর সেবার মান আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, উনানয়নের পূর্বশর্ত কর। এজন্য একটি করবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নানাভাবে কর দাতাদের উৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে। এবারের মেলায় আয়কর সংক্রান্ত সব ধরনের ফরম বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। করদাতাদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াত সুবিধার জন্য রাজধানীর টিএসসি, বেইলি রোড, মিরপুর-২ ও উত্তরা থেকে ১৩টি শাটল বাস নিয়োজিত রয়েছে।
এছাড়া আয়কর মেলার এবার বাড়তি আকর্ষণ করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে ইনকাম ট্যাক্স আইডি কার্ড ও ইনকাম ট্যাক্স পেয়ার স্টিকার প্রদান। প্রথমবারের মতো এনবিআর ঢাকা ও চট্টামের মেলায় এ কার্ড ও স্টিকার প্রদান করা হচ্ছে। এটি এবারের এনবিআরের নতুন উদ্ভাবন।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এবার যারা রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদেরকে ‘ইনকাম ট্যাক্স আইডি কার্ড’ ও ‘ইনকাম ট্যাক্স পেয়ার স্টিকার’ দেওয়া হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের করদাতারা এই কার্ড ও স্টিকার পাবেন। এটি এনবিআরের নতুন উদ্ভাবন বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগারগাঁওয়ে চলমান আয়কর মেলায় ৩৮টি আয়কর রিটার্ন গ্রহণ বুথ, ২২টি হেল্প ডেস্ক বুথ, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের একটি, সঞ্চয় অধিদপ্তরের একটি, কাস্টমসের একটি, মূসকের একটি, কেন্দ্রীয় জরিপ অঞ্চলের একটি, মুক্তিযোদ্ধার একটি, সিনিয়র সিটিজেন একটি এবং প্রতিবন্ধীদের একটি বুথসহ ৩৮টি বুথ বসানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, জনগণই এদেশের মালিক। তাদের করের টাকায় দেশ চলে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব সংস্থা আমাদেরকে ঋণ দেয়, তারা দাতা হবে কেন ? যারা ৪০/৫০ বছরের সুদের বিনিময়ে টাকা ঋণ দেয়, তারা সুদসহ আসল টাকা তুলে নেন। তাই তারা দাতা নন, তারা মহাজন। তিনি আরো বলেন, আমাদের রাষ্ট্র এখন খয়রাতের পর্যায়ে নেই। দেশের দাতা যদি কেউ হয়ে থাকে, তবে সে জনগণ।
প্রতিমন্ত্রী  আরো বলেন, ২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলা শুরু হবার পর প্রথম বছরে আয়কর আহরণ হয়েছিল ১১৩ কোটি টাকা। আর গতবছর আয়কর মেলায় আদায় হয়েছে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। গত আট বছরের মেলায় প্রায় ৮ গুণ আয়কর আহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম বছর ৬০ হাজার ৫০০ করসেবা নিয়েছেন। আর গতবছর করসেবা নিয়েছেন ৯ লাখ ২৮ হাজার। এবারের মেলায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ১২ থেকে ১৩ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। এ সংখ্যা প্রমাণ করে আমাদের জনগণ আয়কর মেলাকে গ্রহণ করেছেন। আয়করের এ সাফল্য শুধু সরকার নয় জনগণের। আয়কর মেলার এ অর্জনের জন্য আমি এনবিআরকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতবছর আয়কর মেলায় জায়গা না পেয়ে অনেক করদাতারা ফ্লোরে বসে রিটার্ন পূরণ করেছেন। এটা এনবিআর বা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এবার মেলায় করদাতাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ চেয়ার টেবিল দেওয়া হয়েছে। একজন দেশের সম্মানিত নাগরিক বা করদাতা কেন মেঝেতে বসে রিটার্ন পূরণ করবেন- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দাতা সংস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের ঋণ দেয় তাদের দাতা সংস্থা কেন বলবো। তারা তো ঋণ দিয়ে সুদ নেয়। তাদের দাতা নয়, মহাজন বলবো। এ ঋণ আমি না হলে আমার পরবর্তী প্রজন্মকে শোধ করতে হবে। যারা দান, খয়রাত করেন তারা দাতা হতে পারেন। কিন্তু একটি রাষ্ট্র কীভাবে একটি খয়রাতি গ্রহীতা হতে পারে- প্রশ্ন করেন তিনি। আমাদের রাষ্ট্র সে পর্যায়ে নেই। আমাদের খাতা থেকে দাতা শব্দটি বের করার চেষ্টা করছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, দেশের মানুষের মাঝে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই কাজ শুরু করা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং যোগ করতে পারলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এতে এফবিসিসিআই সব ধরনের সহযোগিতা দেবেও বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ