ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পিরোজপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ

পিরোজপুর সংবাদদাতা : সুন্দরবনের দুই জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ২০ জলদস্যু বিপুল পরিমাণ আগেয়াস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র তুলে দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করে। র‌্যাব-৮ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মৃর্গামারির শ্যালাগাং পশ্চিম পাড়ে গভীর বন থেকে “মানজু বাহিনীর” প্রধান মানজু সরদারসহ ১১ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৮৫৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারিয়া নামার চরে গভীর বনে “মজিদ বাহিনীর” প্রধান মো. তাকবির কাগচী মজিদসহ মোট ৯জন  জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি দেশী বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৭৬ রাউন্ড গোলাবারুদসহ র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পন করেন।
আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরা হলেন, “মানজু বাহিনীর” জলদস্যু প্রধান মো. মানজু সরদার (৪৪), জুলফিকার ইজারদার (৪৬), মো. বাচ্চু মল্লিক (৩২), মো. তৌহিদুর রহমান শেখ (৫০), মো. রেজাউল ইসলাম (২৫), মো. পলাশ খান (৩৪), মো. সুময়ানমান ফকির (২৫), মো. জামরুল শেখ (৩০), মো. মজিব ইজারাদার (৩২), মো. হাওলাদার আলমগীর (৩৮), মো. হানিফ শেখ (৩২)। “মজিদ বাহিনীর” প্রধান মো. তাকবির কাগচী মজিদ(৩৮), মো. হাসান বিশ^াস (৩৯), মো. আব্দুল মজিদ (৩০), মো. ইউনুছ শেখ (২৪), মো. হাফিজুল ইসলাম (৩২), মো. আফজাল খাঁন(৩৫), মো. এসকেন খাঁন (৪০), মো. হাসান আলী ইজারদার (৩২), মো. মোসা ইজাদ্দার (৩৩)স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপাল ও মংলা থানায়।
আত্মসমর্পণের সময় ১১টি বিদেশী একনালা বন্দুক, সাতটি বিদেশী দোনালা বন্দ্রক, পাঁচটি ২২ বোর বিদেশী এয়ার রাইফেল, ছয়টি ওয়ান শ্যুটারগান ও চারটি কাটা রাইফেলসহ ৩৩টি দেশী বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৩২৯ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজীবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য  একেএম এ আউয়াল, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম শেখ, পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, মৎসজীবী আব্দুল কাইয়ূম ও “মানজু বাহিনীর” প্রধান মো. মানজু সরদার।   
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি বলেন, সুন্দরবন রক্ষা করতে যারা অন্তরায় হবেন তাদের ভবিষ্যত খুবই খারাপ হবে। যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে সরকার সহযোগিতা করবে। যে সকল জলদস্যু বাহিনী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
প্রধানমন্ত্রী জলদস্যুদের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখছেন যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের পুর্নবাসনের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা, র‌্যাব ২০ হাজার টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছে। ইতিমধ্যে যে সকল জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে যাদের হত্যা ধর্ষণ মামলা নেই তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আজকে যারা আত্মসমর্পণ করল তাদেরকেও মুক্তির ব্যবস্থা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ