ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রমাণিত হয়েছে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ কাজ করছে না -আমির খসরু

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে মরহুম জাতীয় নেতা এম কে আনোয়ারের স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে তাতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ আর কাজ করছে না।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু বলেন, মানবিক কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, এতে প্রতিফলন হচ্ছে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ কাজ করছে না। তাকে বাধা দেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ সেটা মেনে নেয়নি। ফেনীতে গাড়িবহরে আক্রমণের পর চট্টগ্রামে লাখ লাখ মানুষ সমাবেত হয়েছে। এ জন্য দেড় কিলোমিটার রাস্তা যেতে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। গাড়ি চলতে পারেনি। এটা হচ্ছে মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তারা রাস্তায় নেমে এসেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কারণে নয়, মানবিক কারণে কক্সবাজার গিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কথা দেশবাসী সবাই জানে, শোক সভায় আমি এসব কথা বলতে চাইনি। কিন্তু এমন একটা ঘটনা সরকারদলীয় লোকজন ঘটিয়েছে সেটা না বলেও পারছি না। একটা মানবিক কর্মসূচি আমাদেরকে করতে দেয়া হচ্ছে না।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রবীণ সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের স্মৃতিচারণ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এম কে আনোয়ার আমাদের আগামী দিনের পথচলার পাথেয়। তিনি আমাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একজন ভদ্র রাজনীতিবিদ হিসেবে মরহুম এম কে আনোয়ারের অভাব দেশের মানুষ অনুভব করছেন। তার মতো দক্ষ রাজনীতিবিদ দেশের জন্য দলের জন্য খুবই দরকার। সততা নিষ্ঠার জন্য তিনি আমাদের মাঝে উদাহরণ। তিনি সরকারি আমলা ছিলেন। কেবিনেট সচিব ছিলেন। কিন্তু অন্যদের মতো বিলাসবহুল জীবনযাপন তিনি করেননি। তিনি আমাদের পথ চলার পাথেয়। তার মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বার বার জেলে পুড়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনা সর্বশেষ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তাকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ফিরে আসতে এবং দেশের চলমান সংকট থেকে বেড়িয়ে আসার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন জানি, প্রধানমন্ত্রী সেটা রাখতে পারলেন না।
বেগম জিয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতারণে যাওয়া ও হামলার বিষয়টি তুলে ধরে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমরা শনিবার শুরু করেছিলাম মানবিক একটি কর্মসূচি, রোহিঙ্গাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর। সারা বাংলাদেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার পেছনে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এটা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তিনি তার বাড়ি ফেনীতে গেলেন, যাবার সময় তার গাড়িবহরে আক্রমণ করা হলো। ফিরে আসার সময় ঠিক একই জায়গায় আক্রমণ করা হলো। এই দুই আক্রমণের সাত দিন আগে ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেনীর সার্কিট হাউজে সবাইকে নিয়ে মিটিং করেছিলেন। এটা পত্রিকায় এসেছে। আমি মনে করি, এটি হচ্ছে সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ।
দুদু আরও বলেন, ‘বিরোধী দলের কাজই হলো সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। আপনারা (আওয়ামী লীগ) খালেদা জিয়াকে রাস্তায় নামতে দিবেন না, তাহলে ভালো নির্বাচন হবে কিভাবে? আপনি নির্বাচনের নামে ভন্ডামি করতে চান। আপনি আমাদের শত্রু না, প্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা আপনাকে স্বাভাবিক ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করতে চাই।
সংগঠনের মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহ, জাসাসের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দীকি, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ