ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারি বেসরকারি সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ন্যায্যতা, দায়িত্বের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোচ্চার ভূমিকা রাখার স্বার্থে আসন্ন বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৩) সরকার এবং নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বার্থকে রক্ষা করবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর ডেইলি স্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ সেন্টারফর এডভান্সড স্ট্যাডিজ (বিসিএএস) ও ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশে এবং কপ-২৩ জলবায়ু সম্মেলনে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা ও করণীয় শীর্ষক” এক কর্মশালায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। বিসিএএস’র নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর গোলাম মোতাসিম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম, বিসিএএস-র ফেলো গবেষক গোলাম রব্বানী, একশন এইড বাংলাদেশের ক্লাইমেট জাস্টিজ বিভাগের ব্যবস্থাপক তানজীর হোসেন, ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রোগ্রামের প্রধান শশাঙ্ক সাদী, ন্যাশনাল ক্লাইমেট চেঞ্জ নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি হামিদুর রহমান প্রমুখ।
ড. আতিক রহমান বলেন, জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের অন্তর্গত কার্যক্রম হিসেবে কনফারেন্স অব পার্টিজ (কপ) অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তেইশতম অধিবেশন জার্মানীর বন শহরে আগামী ৬-১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ন্যায্যতা, দায়িত্বের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোচ্চার ভূমিকা রাখার স্বার্থে আসন্ন বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৩) সরকার এবং সুশীল সমাজের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বার্থকে রক্ষা করবে।
গোলাম মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড সহজলভ্য করতে বাংলাদেশকে আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশ এবং জলবায়ু তহবিলকে গুরুত্ব প্রদান এবং অভিযোজন প্রক্রিয়া ও সহজশর্তে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলে বাংলাদেশ কিভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে, কপ-২৩ সম্মেলনে সে বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।
‘স্টেট অব এক্সেস টু ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপনের মাধ্যমে গোলাম রব্বানী বলেন, বাংলাদেশ সরকার গত ছয় বছরে প্রায় ৭ থেকে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্রতি বছরে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কার্যক্রমে বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে দাতাসংস্থার কাছ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৭ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কারন বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষি, পানি সহ প্রধান খাতগুলোতে প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন।
কর্মশালা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর চারটি বিষয় যেমন মিটিগেশন বাড়ানো ও গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া কমানো, অভিযোজন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তির উপর গুরুত্বারোপ করা হবে। এছাড়াও ধনী দেশগুলোর কার্বন উদগীরণ কমানো, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড সহজলভ্য করা, অভিযোজনের দেশীয় লক্ষ্য স্থির করণ এবং লস এন্ড ডেমেজ বিষয়গুলো ও সামনে আসবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বেশ কিছু সাইড ইভেন্ট আয়োজন করা হবে, সেখানে অর্থ তহবিল ও অভিযোজন বিষয়ে শক্ত অবস্থান অথবা মতামত দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি, সাংবাদিক এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে থাকেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ