ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলবে আরও পাঁচ সপ্তাহ

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিতের মেয়াদ আরও পাঁচ সপ্তাহ বাড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
সরকারপক্ষে সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ স্থগিতাদেশে বাড়ানোর আদেশ দেন।
আদালতে সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজীম।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমরা ৬ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলাম আদালতের কাছে। পরে আদালত পাঁচ সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১১টি বিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় আঘাত করেছে। আইনের ধারা ৫, ৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০,১১, ১৩ ও ১৫ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধারাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথক্করণ-সংক্রান্ত সংবিধানের দুটি মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। অনাকাঙ্খিত জটিলতা ও বিতর্ক এড়াতে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়া বিষয়গুলো ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সব আদেশ, সাজা ও দন্ডাদেশ অতীত বিবেচনায় সমাপ্ত বলে মার্জনা করা হয়েছে।
এ রায় স্থগিত চেয়ে সরকার আবেদন করলে গত ১৪ মে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা ১৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। তিনদিন পর ২১ মে বিষয়টি শুনানি হলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এরপর কয়েকদফায় স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ