ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যশোর মেডিকেল কলেজে ৮৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে ৪৬টিই শূন্য

মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, যশোর : যশোর মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ৮৮টি পদের মধ্যে ৪৬টি পদে কোন শিক্ষক নেই। শিক্ষক সংকটের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মেডিকেল কলেজের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপক মিলে এ কলেজে মোট শিক্ষকের পদ রয়েছে ৮৮টি। এর ভেতর ৪২টি পদে শিক্ষক রয়েছে। ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদে কোন শিক্ষক নেই। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সব পদে অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকার কারণে প্রভাষকরাই চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদান কার্যক্রম। পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকসহ মোট ৮টি পদ রয়েছে। এর ভেতর সহযোগী অধ্যাপকের পদটি শূন্য রয়েছে। এ বিভাগে ১ জন কিউরেটরসহ ৪ জন প্রভাষক রয়েছেন। ফিজিওলজি বিভাগে শিক্ষকের পদ ৬টি। এর ভেতর ১ জন অধ্যাপক, ১ জন সহকারী অধ্যাপকসহ ৩ জন প্রভাষক রয়েছেন। এ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের পদটি শূন্য রয়েছে।
বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে মোট পদের সংখ্যা ৬টি। ১ জন অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৩ জন প্রভাষক। এর ভেতর ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৩ জন প্রভাষক রয়েছেন। অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে কোন শিক্ষক নেই।
কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের পদ সংখ্যা ৬টি। ১ জন অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৩টি প্রভাষক। এর ভেতর অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক পদে শিক্ষক নেই।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষকসহ মোট ৬টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
প্যাথলজি বিভাগে শিক্ষকের পদসংখ্যা ৬টি। এ বিভাগে ১ জন অধ্যাপক ও ১ জন সহযোগী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৩ জন প্রভাষক চালাচ্ছেন প্যাথলজি বিভাগ।
মাইক্রো বায়োলজি বিভাগে শিক্ষকের পদ ৬টি। ১ জন অধ্যাপক, ১ জন সহকারী অধ্যাপক, ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৩ জন প্রভাষক। এর ভেতর অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে।
ফার্মোকোলজি বিভাগে শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬টি। এ বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য। ৩ জন প্রভাষক দিয়ে চলছে ফার্মোকোলজি বিভাগ।
মেডিসিন বিভাগে শিক্ষকের পদ ৪টি। এ বিভাগে ১ জন সহযোগী অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ও ২ জন সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে।
সার্জারি বিভাগের পদসংখ্যা ৭টি। বিভাগটিতে ১ জন অধ্যাপক, ২ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ২ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছে। ১টি সহযোগী অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে।
গাইনি এন্ড অবস বিভাগে ৬টি পদের ভিতর অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। ৪ জন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে চলছে এ বিভাগ।
কার্ডিওলজি বিভাগে ৩টি পদের ভেতর ১ জন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে চালানো হচ্ছে। ১ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে এ বিভাগে।
পেডিয়াটিত বিভাগে রয়েছে ৪টি পদ। এর মধ্যে ১ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ৩ জন সহকারী অধ্যাপক আছেন। ১ জন সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে।
ডার্মাটোলজি বিভাগে ২টি পদের বিপরীতে ১ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। সহযোগী অধ্যাপক পদটি শূন্য রয়েছে।
ইএনটি বিভাগে ৫টি পদ রয়েছে। ১ জন অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিভাগে ২ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন।
অফথালমোলজি বিভাগে ৫টি পদের বিপরীতে ১ জন অধ্যাপক, ১ জন সহযোগী অধ্যাপকের পদ শূন্য। এ বিভাগে ১ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ২ জন সহকারী অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন।
অর্থোসার্জারি বিভাগে শিক্ষকের পদ ৪টি। ২ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করলেও সহকারী অধ্যাপকের ১টি পদে শিক্ষক নেই।
পেডিয়াটিক সার্জারি বিভাগে রয়েছে ৩টি পদ। ১ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ২ জন সহকারী অধ্যাপক। এর ভেতর সহযোগী অধ্যাপক ও ২ জন সহকারী অধ্যাপক। এর ভেতর সহযোগী অধ্যাপক পদ শূন্য রয়েছে।
এ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে ৩টি পদের ভেতর অধ্যাপকের পদটি শূন্য রয়েছে। ১ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপক এ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে ২টি পদ রয়েছে। বিভাগটিতে - ১ জন সহকারী অধ্যাপকের পদ থাকলেও ২টি পদ শূন্য।
রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগে ৩টি পদ। অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ১ জন সহকারী অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন এ বিভাগে।
ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে ১ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১ জন সহকারী অধ্যাপক মিলে ২টি পদ থাকলেও ২টিতে কোন শিক্ষক নেই। ২টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া মানসিক রোগ বিভাগে ১ জন, ইউরোলজি বিভাগে ২ জন সহকারী অধ্যাপক, নেফ্রোলজি বিভাগ ও নিউরোলজি বিভাগে ২ জন সহকারী অধ্যাপক ও রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে ১ জন সহকারী অধ্যাপক সংযুক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানিয়েছে, কলেজে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩শ’ জনের বেশি হলেও এ সকল শিক্ষার্থী অভিজ্ঞ শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেন না। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, অর্থো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এমএ শামসুল আরেফিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবশ্যই অভিজ্ঞ শিক্ষক হচ্ছেন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক। এ সকল সিনিয়র শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা অনেক। তাদের কাছে শিক্ষার্থীরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন, প্রভাষকদের কাছ থেকে তা পারেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ঘাটতি তো থেকে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ