ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 November 2017, ১৮ কার্তিক ১৪২8, ১২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আগামী সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা নেয়ার পরিকল্পনা ইসির

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন জমা নেয়ার পরিকল্পনা করছে ইসি। আর এ জন্য একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল রাখার চিন্তা ভাবনাও করছে ইসি।

ইসি সূত্রমতে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় এবং সীমানা নির্ধারণে যতদূর সম্ভব তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের চিন্তা-ভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের আইসিটি অনুবিভাগের এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এটি করা হলে মনোনয়নপত্র বাছাইসহ অন্যান্য কাজ নির্ধারিত সময়ে ও নির্ভুলভাবে করা যাবে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা যাবে।

কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের অনেকেই অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চায় কমিশন। এসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সভায় উত্থাপন করা হয়। কমিশন প্রস্তাবগুলো যাচাইয়ের জন্য কারিগরি কমিটিতে পাঠিয়েছে।

অনলাইনে মনোনয়নসংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থীরা নানা ধরনের অভিযোগ করেন। অনেক সময় দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে অভিযোগকারী সঠিক সময়ে অভিযোগ দিতে পারেন না।

আবার অনেক সময় অভিযোগ সম্পর্কে ইসির উচ্চপর্যায়ের কেউ জানতে পারেন না। এ সমস্যা থাকবে না যদি অনলাইনে অভিযোগ দাখিলের ব্যবস্থা থাকে। এ ক্ষেত্রে কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে অভিযোগ করা যাবে। নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে যে কোনো অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ ইসিকে দিতে পারবেন প্রার্থীরা। অনলাইনে দাখিল করা যেকোনো অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে দেখতে পারবেন এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

ইসির আইসিটি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক স্বাক্ষরিত তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারসংক্রান্ত এ প্রস্তাবনায় তিনটি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, অফিস অটোমেশন সিস্টেম ও ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন।

সীমানা পুন:নির্ধারণে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ওয়েব বেইজড জিআইএস টুল ব্যবহারের মাধ্যমে জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার করা যাবে। এই টুলে উপজেলা, ইউনিয়ন, মৌজাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য সংযোজন করলে ম্যাপ আপডেট করা যাবে। একই সঙ্গে জিও ইনফরমেশন সংযোজন করা হলে সীমানা নির্ধারণ ও ভোটকেন্দ্র নির্বাচন করা যাবে।

প্রস্তাবের মধ্যে আরো রয়েছে নির্বাচনে প্রার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টালে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনোনয়নপত্র নির্ভুলভাবে বাছাই করতে পারবেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

নির্বাচন মনিটরিং ও ভোটগ্রহণে যেসব ঝুঁকি রয়েছে তাও জানা যাবে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে। বিদ্যমান পদ্ধতিতে ইসির মনিটরিং টিম ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করে, যা সময়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে মোবাইলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্টকোড ব্যবহার করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সরাসরি ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে জানাতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ