ঢাকা, শুক্রবার 3 November 2017, ১৯ কার্তিক ১৪২8, ১৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা

[দুই] 

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : একই বর্ণনা হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে সহীহ্ বুখারীর ২২৫২ নং হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে। সহীহ বুখারীর হাদিস নং-৬৪৮২-তে হযরত আনাস (রা:) থেকে আর একটি হাদিস এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে যে, হযরত আনাস বিন মালিক (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (দ:) বলেছেন তোমরা তোমাদের ভাইকে সাহায্য কর সে অত্যাচারিত হবার ক্ষেত্রে বা অত্যাচার করার ক্ষেত্রে। এক ব্যক্তি নবী করিম (দ:)কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আমরা অত্যাচারিত হবার ক্ষেত্রে ভাইকে ভাইকে সাহায্য করতে পারি কিন্তু কাউকে অত্যাচার করার ক্ষেত্রে কিভাবে সাহায্য করবো। রাসূলুল্লাহ (দ:) বললেন তাকে কাহারো উপর অত্যাচার করা থেকে বিরত রাখবে। এটাই হচ্ছে তার জন্য সাহায্য। আলোচ্য হাদিস দু’টিতে দেখা যায় যে, ইসলাম ধর্ম বা বিশ্ব নবী (দ:) কে নিয়ে গৌরব প্রকাশ করতে গিয়ে একজন মুসলমান যেন সীমা লঙ্ঘন না করে। বা অন্য ধর্মের মানুষের এবং হযরত মুহম্মদ (দ:) ছাড়া অন্যান্য নবী বা ধর্মের প্রতি মানহানিকর বক্তব্য প্রদান না করে বা অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপর যেন চড়াও না হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে ধৈর্যের সাথে ইসলামকে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আল বাকারার ২১৪ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন “তোমাদের কি এ ধারণা যে তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করবে না। যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে তারা ভীত হয়েছে যে, যাতে নবী ও তার প্রতি যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য। তোমরা শুনে নাও আল্লাহ্র সাহায্য একান্ত নিকটবর্তী”। 

ইসলাম ও আত্মঘাতী হামলা : সাম্প্রতিক সময়ে সাড়া বিশ্বে ইসলামী জিহাদের নামে একটি বিকৃত কৌশল তথা-কথিত জিহাদীরা ব্যবহার করছে। তাহলো কোন একজন বা কয়েকজন কথিত মুজাহিদ নাম ধারী নিজেদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক বেঁধে নিয়ে বা কোন আধুনিক যন্ত্রচালিত যানবহনে বিস্ফোরক ভর্তি করে কোন জনাকীর্ণ বাজার, মসজিদ বা সরকারী অফিসে আত্মঘাতী হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়ে শত শত নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া। আমরা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের আত্মঘাতি হমলার ঘটনা দেখতে পেয়েছি। মুসলিম বিশ্বের বাইরেও ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট, ফ্রান্স, প্রভৃতি রাষ্ট্রের অনেক স্থানে এ ধরনের তথা কথিত জিহাদী নাম ধারীরা বেশ কিছু আত্মঘাতী হামলা পরিচালনা করে অসংখ্য নিষ্পাপ ও নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে নিজের প্রশ্নসিদ্ধ শহীদ হওয়ার এক ভ্রান্ত বিশ্বাস নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। ইসলামে জিহাদের ময়দানে বা জীবনের যে কোন সময় মানুষের আত্মহত্যা করাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সাবীত ইবনে যাহ হাক (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (দ:) বলেছেন যে বস্তুর মালিকানা বান্দার নেই সেই বস্তুর মানত করলে তা পালন করার দায়িত্ব বান্দার উপর বর্তায় না। যে ব্যক্তি কোন ঈমানদারকে কাফের বলে অপবাদ দেয়, সে তার হত্যাকারীর মতো। যে ব্যক্তি যে জিনিস বা যে অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাআলা সে জিনিস দিয়ে তাকে আযাব দিবেন। তিরমিযী হাদিস নং ২৬৩৭। আবু বকর ইবনে আবু শায়বা ও আবু সাঈদ আসাজ্জ থেকে বর্ণিত তাহারা উভয়ে আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (দ:) বলেছেন যে ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সেই অস্ত্র কেয়ামতের দিন তার হাতে থাকবে। জাহান্নামের মধ্যে সে সেই অস্ত্র দ্বারা নিজেকে আঘাত করতে থাকবে এবং এভাবে সে জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে উক্ত বিষপান করতে থাকবে। আর এভাবেই সে চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে নিজেকে নিচে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে। এভাবেই সে ব্যক্তি সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। সহীহ্ মুসলিম হাদীস নম্বর ২০১। সহীহ মুসলিমের ২০৩, ২০৫ নং হাদিসে একই বিষয়ে হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। সহীহ মুসলিমের ২০৬ নং হাদীসে একজন আত্মঘাতী মুজাহিদের বিবরণ আছে। তাকে রাসুলুল্লাহ (স:) জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসটি নিুরুপ আবু হোরায়রা (রা:) বলেন আমরা রাসুলুল্লাহ (স:) এর সাথে হোনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (স:) একজন ঈমানদার হবার দাবিদার এক ব্যক্তির বিষয়ে বললেন যে ঐ ব্যক্তি জাহান্নামী যখন কাফেরদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হলো, লোকটি ভীষণভাবে যুদ্ধ করলো সে কাফেরদের আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হলো। রসুলুল্লাহ (স:) এর কাছে বলা হলো হে আল্লাহর রসুল আপনি এইমাত্র যাকে জাহান্নামী বলেছেন সেতো আজ খুব লড়াই করেছে এবং মারা গেছে। রসুলুল্লাহ (স:) বললেন সে জাহান্নামে গেছে। ব্যাপারটি মুসলমানদের কাছে সন্দেহ জনক লাগতে থাকলো। ইতি মধ্যে হুনাইনের ময়দানে খবর ছড়িয়ে পড়লো যে লোকটি মরে নাই। কিন্তু সে ভীষনভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। রাতের বেলা সে তার জখমের ব্যাথা সহ্য করতে পারলো না। তাই সে নিজেই নিজেকে হত্যা করে ফেললো। এখবর রাসুলুল্লাহ (স:) দেয়া হলে তিনি বললেন আল্লাহু আকবার। আমি তার বান্দা ও রাসুল। তিনি বেলালকে ডেকে নির্দেশ দিলেন যে লোকদের মাঝে ঘোষনা করে দাও, মুসলমান ব্যতিরেকে কেউই জান্নাতে যেতে পারবে না। এতে সন্দেহ নেই যে অনেক পাপী বান্দার দ্বারাও আল্লাহ দ্বীন-ইসলাম এর শক্তি বাড়িয়ে দেন। একই হাদীস ইমাম মুসলিম (রা:) ইবনু সাদ এর বরাতে উল্লেখ করেছেন হাদীস নং ২০৭। ইমাম মুসলিম, মুসলীম শরীফের ২০৮ নং হাদীস হিসাবে আর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। “পূর্ব যুগের একজন ব্যক্তি ফোড়ায় আক্রান্ত হয় এবং ঐ ফোড়ার যন্ত্রনায় তার তীরের তুনিরের ফলা বের করে সে আত্মহত্যা করে। আল্লাহ তাআলা তার আত্মহত্যার পর ঘোষনা করেন যে আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। আত্মঘাতিরা চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামের বাসিন্দা হবে”। কেননা একজন মুসলমান খুন, চুরি, ডাকাতি, মদ্যপান, ফরজ নামাজ কাজা করার মতো অপরাধ করে জীবিত থাকে এবং তার জন্য তওবার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে। পাপ পরবর্তী জীবনের কোন এক সময় সে তওবা করলে শিরকের গুনাহ ব্যতিত আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু আত্মঘাতীর জন্য তওবার কোন সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না। উল্লেখিত হাদিসসমূহের বিবরণ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে জানতে পারি “যারা আত্মঘাতী হয় তারা খোদাদ্রোহী। তারা চিরকাল জাহান্নামে বসবাস করবে। আমরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশে প্রায়ই এ ধরনের আত্মঘাতিদের খবর পাই। তারা অনেকে নিজেদের স্ত্রী সন্তানসহ বিস্ফোরক দ্রব্যের বিষ্ফোরন ঘটায়ে আত্মঘাতি হচ্ছে। অনেকে ভিন্নমতের মুসলমানদের মসজিদ ও জানাজা অনুষ্ঠানে, বাচ্চাদের স্কুলে নিজের শরীরে বোমা বেধে বিষ্ফোরন ঘটায়ে নিজে আত্মহত্যা করছে। সেই সাথে হাজারো নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করেছেন। তাদের আত্মঘাতি বিষ্ফোরনের মাধ্যমে যারা মারা গেছে তারা জানে না কি অপরাধে তাদের মৃত্যু হলো। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা তাকবীরের ৮ নং আয়াতটি স্মরন করা যায়। আয়াতটির অর্থ এই যে, “যখন জীবন্ত প্রথিত শিশুকে জিজ্ঞাসা করা হবে তাকে কি অপরাধে হত্যা করা হয়েছে”। বর্তমান সময়কালে কিছু কিছু মুসলনমান ভাই ইসলামের প্রকৃত বিধানের অজ্ঞতার কারণে আত্মঘাতি হামলাকারী মুজাহিদ নামধারী দের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে থাকেন বা প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে থাকেন। আমি তাদেরকে অনুরোধ করবো তারা যেন এ ধরনের ঘৃনিত পাপ কাজে সমর্থন দিয়ে নিজেরা ঈমান হারা হয়ে না যান।

ইসলাম একটি প্রচারণা মূলক মিশনারী জীবন ব্যবস্থা

ইসলাম কেবল জোর-জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতার বলে চাপিয়ে দেওয়ার মত কোন ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা নয়। ইসলাম সদা সর্বদাই সমস্ত বিশ্বের সমগ্র রাষ্ট্রীয় সীমানায় সমগ্র মানব জাতির কাছে প্রচার এর স্বাধীনতা দাবি করে। ইসলামী সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হচ্ছে বিশ্ব মানবতার কাছে ইসলাম এর মহত্ব তুলে ধরে তা গ্রহনের জন্য আহবান বা দাওয়াত। সুন্দর সুন্দর মন জয়করা বক্তব্য দিয়ে এবং মানবজাতির সাথে সুন্দর আচরনের মাধ্যমে ইসলামী আদর্শের যৌক্তিকতা বা বক্তব্য তুলে ধরে পৃথিবীর মানুষের সমর্থন আদায় করাই এর প্রাথমিক লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের আল্লাহ বলেন “আপনি (মুহাম্মদ দঃ) আপনার পালনকর্তার দেখানো পথের দিকে আহবান করুন, প্রজ্ঞা ও যৌক্তিকতার সাথে এবং সুন্দর প্রাঞ্জল ও মাধুর্য্যপূর্ন ভাষায়। আর প্রয়োজনে তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পদ্ধতিতে। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত রয়েছেন কে সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে, আর তিনিই ভালো জানেন কারা সঠিক পথে আছে।” সুরা আন নাহল আয়াত ১২৫। উদ্ধৃত আয়াতে দেখা যায় মুসলমানদের প্রতি সুন্দর প্রাঞ্জল ভাষায় পৃথিবীর মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। দাওয়াত দাতাকে হিকমত বা কৌশল বা যুক্তি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং ইসলামকে যৌক্তিকভাবে দুনিয়ার প্রচলিত সমস্ত ধর্ম ও মতবাদ এর উপর বিজয়ী করার জন্য বিতর্কে লিপ্ত হতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিতর্কটি শর্ত মুক্ত তা নয়। তা হতে হবে সুন্দর পন্থায়। আল্লাহ পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আশ শুরার ৪৮ নং আয়াতে রাসুলুল্লাহ (স:) কে সাবধান করে বলেন যে, “আপনাকে দুনিয়ার মানুষের জন্য দারোগা বা মুসাইতীর করে পাঠানো হয় নাই। আপনার দায়িত্ব হলো মানুষের কাছে দাওয়াত পৌছায়ে দেয়া। হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আমার।” সুরা আল্ বাকারায় আল্লাহ বলেন “দ্বীন গ্রহন করানোর ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই সঠিক পথ গোমরাহীর পথ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। যে ব্যক্তি তাগুত (ইসলামের বাহিরে মানব রচিত পথ সমূহ) কে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে সে অবশ্যই সুদৃঢ় একটি হাতলকে আকড়ে ধরে। যা কখনও ভাঙ্গার নয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং জানেন।” আয়াত ২৫৬। উদ্ধৃত আয়াত কয়টিতে নবী মোহাম্মদ (সঃ) কে দুনিয়ার মানুষকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও বিশ্বাসের দিকে আহ্বানকারী বা আকৃষ্টকারী হবার কথা বলা হয়েছে। সেই সাথে একথা বলা হয়েছে যে, পুলিশ বাহিনীর দারোগা যেভাবে মানুষকে গ্রেফতার করে শাসকদের সামনে বা বিচারালয়ে হাজির করেন। সে এধরনের কোন দায়িত্ব নবী (সঃ) বা তার উম্মতদের উপর নেই। বরং তাদের দায়িত্ব হলো অনবরত প্রতিনিয়ত ইসলামী জীবন ব্যবস্থার দিকে মানুষকে আহবান করা। আর নবীদের দাওয়াত মানতে যদি মানুষ অস্বীকার করে, তার হিসাব নেওয়ার বা বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহর। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা গ্রহনের ব্যাপারে কোন ধরনের বল প্রয়োগ করা যাবে না। আর যে মানুষগুলো ইসলামী আদর্শে দীক্ষিত হবার আহবানে সাড়া দেবে, তারা একজন ইমাম আদর্শ বা নেতার অধীনে একটি জামায়াত বা দলে শামিল বলে গণ্য হবে। নেতা এবং দলে যোগ দেওয়া মানুষ গুলোকে ইসলামের বিস্বাশ গত ও আচরনগত বিধানগুলির প্রতি দৃঢ়ভাবে অন্তর দিয়ে বিস্বাশী হবে এবং ইসলামের যাবতীয় অনুশাসন নিজেদের জীবনে একশত ভাগ অনুসরন করবে। সেই সাথে এই দল বা সম্প্রদায়ের মানুষজন যাদের যোগ্যতা রয়েছে তারা সার্বক্ষনিকভাবে বিশ্বজুড়ে তারা যে দেশের বাসিন্দাই হোন না কেন সেই দেশের বা জনপদের লোকদেরকে তাদের অনুসৃত জীবন ব্যবস্থার মাধুর্য্য তুলে ধরে সুন্দর যৌক্তিক ভাষায় তার দিকে অবিরাম দাওয়াত দিতে থাকবে এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। যদি দেখা যায় যে, ঐ জনপদের জনগণ অধিকাংশই ঐ মতবাদকে সমর্থন দিয়েছে বা তার অনুসারী হয়েছে, তবেই কেবল তাদেরকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঐ জনপদে একটি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে পারবে। ঐ রাষ্ট্রের যে সব নাগরিক ইসলামী মতবাদ বা দ্বীন গ্রহন করবে না তারা ঐ রাষ্ট্রের সম্মানীত এবং নিরাপত্তা প্রাপ্ত নাগরিক হবার মর্যাদা প্রাপ্ত হবেন। আর তারা নিজেদের ধর্ম পালনের পুর্নাঙ্গ স্বাধীনতা প্রাপ্ত হবেন। তারা ঐ রাষ্ট্রের যাবতীয় নাগরিক সুবিধা ভোগ করবেন। যদি তারা ইচ্ছা করেন যে, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কর প্রতিরক্ষার মতো ঝুকিপূর্ণ কাজে অংশ নেবেন না, তাহলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কর দিয়ে তারা ঐ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করবেন। তাদেরকে ঐ বিষয়ে বাধ্য করা যাবে না। আলোচিত নিয়মে যদি কোন জনপদের লোকজন সংখ্যা গরিষ্ঠভাবে মিলিত হয়ে যদি এ ধরনের একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করে। আর সেই রাষ্ট্রটি যদি অভ্যন্তরীন ও বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়। তাহলে আদর্শ রাষ্ট্রটিকে রক্ষার জন্য যে ধরনের প্রতিরক্ষা মুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় তাকেও জিহাদ বলা হয়। এ ধরনের জিহাদে আদর্শ রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমর্থন দিতে বাধ্য। এ ধরনের ক্ষেত্র ব্যতীত মুসলমান অধ্যুষিত বা অমুসলিম অধ্যুষিত কোন জনপদে ইসলামের নাম ব্যবহার করে যদি কোন গোষ্টি হঠাৎ করে সশস্ত্র হয়ে আত্ম প্রকাশ করে ঐ দেশে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করে। বা শান্তি বিনষ্টের কারন হতে শুরু করে, তার কোন বৈধতা ইসলাম দেয় নাই। এ ধরনের কার্যকলাপের কোন সমর্থন কোরআন হাদীসে নাই। আল্লাহর সর্বশেষ রাসুল মুহম্মদ (সঃ) ৪০ বছর বয়সে রিসালতের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি মক্কার কাফির মুশরীক অধ্যুষিত জনপদে জন্মগ্রহন করে শিশুকাল, কৈশোর, যৌবনকাল অতিবাহিত করেন। সেখানে তিনি কোন দিনই কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম গ্রহন করেন নাই। নবী হবার পরেও ১৩ বছর মক্কায় অনেক জুলুম নির্যাতন প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে আল্লাহর দ্বীনের দিকে মক্কার মুশরীক কাফিরদের দাওয়াত দিতে থাকেন। এই দাওয়াত দানের কোন এক পর্যায়ে তিনি কোন ধরনের গোপন দল গঠন করেন নাই বা কোন ধরনের সন্ত্রাসী দল গঠন করে সশস্ত্র হয়ে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা তার দেশের জনগনের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন নাই। মক্কা বা আশেপাশের ক্ষুদ্র একটি জনগোষ্টি তার দাওয়াত কবুল করে ইসলামী আদর্শে উপর ইমান আনে। তারা বেশির ভাগই ছিলেন মক্কার সাধারন মানুষ, দাস, গরীব শ্রেণির। মক্কার মুশরীক শক্তি একজোট হয়ে মুহাম্মদ (সঃ) এর দাওয়াতকে রুখে দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করে। তারা কঠোর জুলুম নির্যাতন হত্যার পন্থা বেছে নিতে মোটেও পিছপা হয় নাই। কিন্তু মুহাম্মদ (সঃ) তার পরেও কোন প্রকার অশান্তির পথ বেছে নেন নাই। বরং তার অনুসারীদের একটা অংশকে তিনি আবিসিনিয়ায় নিরাপদে বসবাসের জন্য পাঠিয়ে দেন। ইসলামের দাওয়াতে যখন মক্কায় একটি বিরাট আলোড়ন তোলে, সেই পর্যায়ে মক্কার কুরাইশ নেতৃবৃন্দ মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে এক সময় একটি আপোষ রফার প্রস্তাব দেয়। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ