ঢাকা, শনিবার 4 November 2017, ২০ কার্তিক ১৪২8, ১৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইইবি নির্বাচন নিয়ে খুলনায় উত্তেজনা

খুলনা অফিস: আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারের (এলইসি) দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) খুলনা কেন্দ্রের প্রধান ড. মিহির রঞ্জন হালদার।
মঙ্গলবার তার পদত্যাগপত্র আইইবি খুলনা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম আব্দুল্লাহর কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে আইইবি’র আসন্ন নির্বাচনে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বাঁধা ও হুমকির কারণে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারা প্রার্থীরা তার পদত্যাগ দাবি করে কেন্দ্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং খুলনা কেন্দ্রের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছিল। উদ্বুত সংকটের সুরাহা না করেই তার এই পদত্যাগ সমস্যাকে সমাধানের পরিবর্তে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলে আশংকা করছেন ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা। আগামী জানুয়ারীতে খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য প্রকৌশলীদের জাতীয় কনভেনশনে এ ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে। প্রকৌশলীদের বড় একটি অংশ অনুষ্ঠান বয়কট করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর আইইবির ২০১৮-১৯ টার্মের নির্বাচনের নমিনেশন পেপার জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। বিকেল ৩টার দিকে নির্বাচনের প্রার্থীরা নগরীর খালিশপুরস্থ আইইবি খুলনা কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন বহিরাগত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করছে। গেটের ওপরে টানানো একটি ব্যনারে লেখা রয়েছে-বিএনপি জামায়াতপন্থীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা, এলাকাবাসী। বহিরাগতরা একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। তারা নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমকে দায়িত্ব পালনের জন্য কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়নি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নির্বাচন কমিশনের অপর সদস্য ড. কামরুল হাসান তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মনোনয়নপত্রগুলো গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। তিনি অসহায়ের মতো বলেন, আমি নিজেই নিরাপত্তাহীন হয়ে বসে আছি। আমার কাছ থেকে যদি কেড়ে নিয়ে যায় তখন কি করবো। এ সময় তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মিহির রঞ্জনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রাত ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে আসবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্ত রাত ৯ টা পর্যন্ত তার দেখা মেলেনি। এমনকি তিনি কেন্দ্রে না এসে আইইবি খুলনা কেন্দ্রের এক কর্মচারীকে গোয়ালখালিতে ডেকে নিয়ে নমিনেশন বক্স সিলগালা করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান।
এলইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে ৫ জন কর্মকর্তা ও ১৯ টি সদস্য পদে মোট ২৪ টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
তবে এ সময় আরো প্রায় ২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে চাইলেও বহিরাগতদের বাঁধার কারণে জমা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। বাঁধাপ্রাপ্তরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রকৌশলীদের সংগঠন এ্যাবের সাথে সম্পৃক্ত।
মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারা প্রার্থীরা ২৩ অক্টোবর সিইসি বরাবর এক আবেদনে খুলনা আইইবি নির্বাচন স্থগিত করে নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকলকে নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। একই দাবিতে তারা আইইবি খুলনা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম আব্দুল্লাহকেও চিঠি দেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে পদত্যাগী এলইসি ড. মিহির রঞ্জন হালদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে বহিরাগতদের দ্বারা মনোনয়নপত্র জমায় প্রার্থীদেরকে বাধা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
এমনকি নির্বাচন কমিশনের সদস্যরাও তাদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। তবে কুয়েটে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় আইইবি নির্বাচনের কাজে সময় দিতে পারবেন না বলে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানান।
আইইবি খুলনা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম আব্দুল্লাহ বলেন, কোন পদত্যাগপত্র এখনও আমার হাতে পৌঁছেনি। কি কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন তা আমার জানা নেই।
আগামী ২১ ডিসেম্বর আইইবির নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সারা দেশের ১৮ টি কেন্দ্রের মধ্যে শুধুমাত্র খুলনায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় বাঁধা দান, বহিরাগতদের মহড়া, মনোনয়নপত্র কেড়ে নেয়া, ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। সংক্ষুব্ধদের অভিযোগ, রাজনৈতিক শত মতদ্বৈততা সত্বেও এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ও নজিরবিহীন ঘটনা আইইবিতে অতীতে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহা না হলে আগামী জানুয়ারীতে খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় কনভেনশন বয়কট করতে পারেন প্রকৌশলীদের বৃহৎ একটি অংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ