ঢাকা, শনিবার 4 November 2017, ২০ কার্তিক ১৪২8, ১৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুবলার চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মওসুমে দস্যুদের টোকেন বাণিজ্য

খুলনা অফিস: বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মওসুমকে কেন্দ্র করে জলদস্যুদের টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জেলেরা দস্যুদের কাছ থেকে ‘টোকেন অথবা কাগজের ওপর এক ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন’ ব্যবহৃত স্লিপ সংগ্রহ করে সাগরে নামছেন। জেলেদের এই টোকেন নেয়া বাধ্যতামূলক। যেসব জেলে এই টোকেন সংগ্রহ করেননি, তাদের অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অপহৃত একজন জেলেকে  এজন্য  মহাজনের কাছে  সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে ও মহাজন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগর সাগরজুড়ে অন্তত আটটি জলদস্যু বাহিনী এই টোকেন বাণিজ্য করছে। প্রতি বছর শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে দস্যুরা তৎপর থাকে।
সাগর এলাকায় সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীগুলো হলো- মোস্তাক, নূর মোহাম্মদ, জোনা, ওহিদ মোল্লা ওরফে বড় ভাই, জুয়েল, সুমন, কিশোর ও ফারুক বাহিনী। এরা প্রশাসনের সতর্ক নজরদারি এড়িয়ে সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটটি নয় এখন সাতটি বাহিনী সাগরে দস্যুতা করছে।
র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোহেল রানা প্রিন্স জানান, এই বাহিনীগুলো সাগরে উৎপাত শুরু করেছে। এদের মধ্যে বাহিনী নূর মোহাম্মদ বাহিনীর প্রধান নূর মোহাম্মদ গত সোমবার পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলেও তার বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব দস্যু বাহিনী শুধু শুঁটকি মওসুম নয়, সব মওসুমেই বেপরোয়া থাকে। তবে তাদের দমনে কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব। আর টোকেন বাণিজ্য অনেক আগ থেকেই হয়ে আসছে, এখনও চলছে। এটা বন্ধে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরের দুবলা এবং সুন্দরবনের ভদ্রা এলাকা থেকে গত রোববার মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যু ওহিদ মোল্লা ওরফে বড় ভাই বাহিনী। পরে তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনে তাদের মহাজন শহিদুল সানা এবং বিকাশ।
মৎস্যজীবীদের সংগঠন ‘দুবলা ফিশারম্যান’ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, সাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও দুবলার চরে শুটকি প্রক্রিয়করণকে কেন্দ্র করে দস্যুদের উপদ্রব শুরু হয়ে গেছে।
র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের মধ্যে একজন জেলেদের অপহরণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২৭ অক্টোবর দুটি ট্রলারসহ দুই জেলেকে অপহরণ করা হলে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়। ওই বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ  করা  দস্যু আব্বাসও ছিল। আব্বাসের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নে।
জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে এ বছর ১০-১৫ হাজার জেলে ও মৎস্য আহরণকারী জড়ো হয়েছেন সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়া চরে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ছয়টি মৎস্য আহরণ, শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে এই দুবলা জেলে পল্লী গড়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ