ঢাকা, শনিবার 4 November 2017, ২০ কার্তিক ১৪২8, ১৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জেল হত্যা দিবস পালিত

চার নেতার হত্যাকারীরাই শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে : ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও জাতীয় চার নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুক্রবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিন নেতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অপর নেতা এএইচএম কামারুজ্জামানের কবর রাজশাহীতে এবং সেখানেও দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চারনেতাকে ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা সাহারা খাতুন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আবদুল মান্নান খান, মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং ড. হাসান মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে হত্যা করে। এই চার নেতা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং জাতির স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বনানী কবরস্থানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ উত্তর ও দক্ষিণ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বাস্তুহারা লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, বিভিন্ন দল ও সংগঠন জাতীয় চার নেতাসহ ১৫ আগস্টের নিহত শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যাকারীরাই ২১ আগস্টসহ ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্টের ঘটনা একই ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তের ফসল।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, একই বছরের ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্য এবং শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যাচেষ্টার ঘটনা একই ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তের ফসল। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক আওয়মী লীগ।
এদিকে দিনটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। এছাড়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে আজ পালিত হচ্ছে শোকাবহ এই দিবস। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এদিকে ৩ নভেম্বর ‘জেলহত্যা দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদেরে সন্তান তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। জেলহত্যা দিবসে শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান।
এদিকে রাজধানীর পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো সেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
সকালে কারাগারের স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পরে কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আইজি প্রিজন ইকবাল হাসান এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুন।
পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের শক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশের অভুদ্যয় চায়নি, যারা বাংলাদেশকে আজো মেনে নিতে পারে না, তারাই ষড়যন্ত্র করছে। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন ষড়যন্ত্র চলছে।’
‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কি সেই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দেয় না। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতার বাইরে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র হয়েছে, সারা বিশ্ব এটা প্রত্যক্ষ করেছে। সব ষড়যন্ত্রকে ভেদ করে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে তাঁর কন্যা ও চার নেতার বংশধররা সবাই এক হয়ে লড়াই করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ