ঢাকা, শনিবার 4 November 2017, ২০ কার্তিক ১৪২8, ১৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে দিশেহারা মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে দিশেহারা মানুষ। চালের দাম বেশ কিছুদিন আগেই বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু এখনো কমেনি। সবজির দাম আকাশচুম্বী। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম আশির ঘর অতিক্রম করেছে। সহসাই পেঁয়াজের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে ভোক্তারা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা দরে। এছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বর্তমানে দেশি ও আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, নতুন মওসুমের অল্পস্বল্প পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে কিছু দিন পর। তখন কিছুটা কমতে পারে। তবে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ হতে সময় লাগবে। তাই দ্রুত দাম নাও কমতে পারে।
তবে পেঁয়াজের দাম বাড়তি হলে কাঁচা মরিচে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৪০ টাকা কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে।
বাজারে এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।
টিসিবির মূল্য তালিকায় দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৭৫-৮৫ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা দেখা গেছে।
এখন ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করে পেঁয়াজের বাজার সামাল দেয়ার সুযোগ দেখছেন না আমদানিকারকেরা। তাদের দাবি, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে। পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ নেই। কারণ, দাম সেখানেও চড়া।
তবে সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কিছুটা বাড়লেও আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। কেজি প্রতি চীনের আদা ১৪০ টাকা এবং কেরালা আদা ১৫০ টাকা, ছোলা ৮৫ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা, মাষকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার মধ্যে কেজি প্রতি দারুচিনি ৩৬০ টাকা, জিরা ৪৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১৫০০ টাকা, এলাচ ১৬০০ টাকা, হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কেজি প্রতি দেশি রসুন টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১১০ টাকা, আলু কেজি প্রতি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে।
ভোজ্য তেলের দাম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা, দেশি টমেটো ১০০ টাকা, শশা ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা, কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৮-৬০ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৬-৫৮ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় বিআর-২৮ ৪৮ টাকা, দেশি বিআর-২৮ ৫০ টাকা, নাজিরশাইল (কাটারি) ৬৩ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬৫ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা।
আর বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশ হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা দরে।
এদিকে ছোট দেশি মুরগির দাম আগের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৩০-১৩৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে প্রতি কেজি গরুর গোশত ৫০০ টাকা এবং খাসির গোশত ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ