ঢাকা, রোববার 5 November 2017, ২১ কার্তিক ১৪২8, ১৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্যাস স্বল্পতায় ১৭ টি কেন্দ্র বন্ধ এলএনজি’তে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

 

শাহেদ মতিউর রহমান :  গ্যাস স্বল্পতায়  বন্ধ হয়েছে দেশের ১৭ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আগামী সেচ মওসুমে বিদ্যুতের সংকট আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এবার তরলীকৃত প্রাকৃকিত গ্যাসের বা এলএনজি উপর নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রথম অবস্থায় পটুয়াখালির পায়রা উপজেলায় তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। আজ রোববার কেন্দ্রটির নির্মাণ কৌশল বিষয়ে বেসরকারি দুটি কোস্পানির সাথে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। 

সংস্থা দুটি হচ্ছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল) ও জার্মান ভিত্তিক সিমেন্স এজি। 

সূত্র জানায়, আজ রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই-এলাহী চৌধুরী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, জার্মানীর রাষ্ট্রদূত থমাস প্রিনজ সংঘ স্মারক সই এর সময় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ৫২টি। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সাত হাজার ১৬৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ১৭ টি কেন্দ্র। গ্যাসের সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্র থেকে সক্ষমতা থাকলেও এক হাজার ৮২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে  চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আগামী সেচ মওসুম ও রোযা শুরু হলে লোডশেডিং আরো বাড়ার সংশয় প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, গ্যাস সংকটে দেশের ১৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৮টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সংকট মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, এলএনজি আমদানীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সাথে নতুন করে আরো কুপ খননের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  এই প্রথমবারের মতো দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন একটি এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ৩৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে উপকূলের জেলা পটুয়াখালির পায়রা উপজেলায়।

বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) এর জনসংযোগ পরিচালক চৌধুরী সাইফুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।  তিনি জানান, এনডব্লিউপিজিসিএল ও সিমেন্স এজি এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে। সাইফুল হাসান জানান, কোম্পানি দুইটি নতুন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট তৈরি করবে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পায়রা বন্দরের কাছাকাছি একটি এলএনজি টার্মিনালও নির্মাণ করা হবে বলে জানান সাইফুল হাসান।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ড এর পাওয়ার সেলের সর্বশেষ তথ্যমতে দেশে এখন বিদ্যুতের উৎপাদনের সক্ষমতা প্রতিদিন ১৫ হাজার ৮শ’ ২১ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত বিদ্যুৎ দেখানো হয়েছে ৯ হাজার ৫শ’ ৭ মেগাওয়াট। বিভিন্ন খাতে বিদ্যুতের চাহিদা এখন ১২ হাজার মেগাওয়াটের উপরে। যদিও এই চাহিদা সেচ এবং রোযার মওসুমে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকে। পিডিবি সিস্টেম লস দেখিয়েছে শতকরা ১২ দশমিক ১৯ ভাগ আর বিতরণ লস  দেখানো হয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ ভাগ ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ