ঢাকা, রোববার 5 November 2017, ২১ কার্তিক ১৪২8, ১৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অনির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত  স্তম্ভ ধ্বংস করে ফেলেছে

স্টাফ রিপোর্টার : আজকে বাংলাদেশ একটা কঠিন সময় পার করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এমন একটা শাসকগোষ্ঠী আমাদের ওপর চেপে বসেছে যারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। যারা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, সন্ত্রাসের মধ্যদিয়ে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এবং এর মধ্যেই রাষ্ট্রের সমস্ত স্তম্ভ ধ্বংস করে ফেলেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যতগুলো প্রতিষ্ঠান ছিল সব ধ্বংস করে তাদের (আওয়ামী লীগ) পকেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে আফসার আহমদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের আহবায়ক মরহুম নেতার সহধর্মিনী বেগম জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামাস দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সহ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দেশ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই আওয়ামী অপশক্তিকে আগামী নির্বাচনে পরাজিত করতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা কে কোন দল করি, না করি সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। আজকে দেশকে বাঁচানোর জন্য, দেশের হারানো গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। আমরা চাই দেশে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সেই আন্দোলন ও নির্বাচনে আমাদেরকে জয়যুক্ত হতে হবে, ওদের (আ’লীগ) পরাজিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের ভবিষ্যত অন্ধকার। 

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের যতগুলো প্রতিষ্ঠান ছিল সব ধ্বংস করে তাদের (আওয়ামী লীগ) পকেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) আবার একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাচ্ছে। কিন্তু এবারের আঙ্গিকটা ভিন্ন। গণতন্ত্রের খোলসের মধ্যে দিয়ে তারা এই কাজটা করছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। এজন্য একটাই মাত্র পথ, জনগণকে সাথে নিয়ে, ঐক্যবদ্ধ করে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরকে আওয়ামী অপশক্তিকে পরাজিত করতেই হবে।

সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা। সাধারণভাবে দেখা যায় যে মামলাগুলোর এক মাস-দুই মাস-তিন মাস পরে তারিখ পড়ে। দেশনেত্রীর মামলার প্রতি সাপ্তাহে তারা তারিখ দিচ্ছে। এসব তারিখ দিয়ে তারা আজকে তাকে (দেশনেত্রী) আটকিয়ে রাখতে চায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে। যেটা বলেছেন দেশনেত্রী নিজেই (বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালত, তিনি আশঙ্কা করছেন নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই এই কাজগুলো সরকার করছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, আমরা যারা জনগনের অধিকারকে ফিরিয়ে দেয়া বিশ্বাস করি, আমরা যারা মনে করি জনগনের অধিকার রয়েছেন তাদের নিজেদের সরকার নির্বাচিত করার, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে সবাইকে নিয়ে। কে কোন দল করি না করি সেটা নয়। আজকে দেশকে বাঁচানোর জন্য, গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তি এই আওয়ামী লীগ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদেরকে বিজয়ী হতে হবে। ওদের পরাজিত করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ত্রান দেয়ার যাত্রাপথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকসহ আমাদের নেতা-কর্মীদের গাড়িতে আক্রমন করা হলো। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন মারাই গেছেন। ১৪ জন আহত হয়েছে, তিনজনকে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। একজন তিন ঘন্টা যাবত নিখোঁজ ছিলো পরে পুলিশ তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এসব ঘটনার পর ক্ষমতাসীনরা অবলীলায় বলছে এটা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতি দেখেছে, সাংবাদিকরা দেখেছে, সবাই দেখেছে তারা (ক্ষমতাসীন)এই কাজটা করেছে। এখনো তারা মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। অথচ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে, মামলা করেছে আমাদের দলের ৩২ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এই যে জাতির সঙ্গে প্রতারনা, সরকার যদি নিজেই জাতির সঙ্গে মিথ্যা কথা বলে, জাতির সঙ্গে প্রতারনা করে, সরকার যদি নিজেই একটা অসত্যকে সত্য প্রমাণিত করতে চায় তাহলে তো কখনো সেই সরকারের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না, আস্থা রাখা যায় না। এরা আস্থা হারিয়েছে, এদের জনগনের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হয়ে গেছে বলেই তারা গায়ের জোরে মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা খুন করে গুম করে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করছে ক্ষমতায় টিকে থাকাবার জন্য।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যারা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ায় বিশ্বাস করি, আমরা যারা মনে করি জনগণের অধিকার রয়েছে তাদের ভোট দেয়ার, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি তাদের সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এবং জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। সরকারের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়েছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের সাথে এদের (আওয়ামী লীগের) সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, এজন্যই তারা গায়ের জোরে, মিথ্যা মামলা দিয়ে, খুন-জখম-গুম করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাচ্ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনীতি করা সম্মানজনক এমনটি কেউ মনে করতে চান না। রাজনীতি এখন হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের সরকারের সময় এমনটি ছিল না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ