ঢাকা, রোববার 5 November 2017, ২১ কার্তিক ১৪২8, ১৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে বনানী কবরস্থানে দাফন

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বরিশালের জেলা স্কুল মাঠে, দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে, বিকেলে সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় ও গুলশানের আজাদ মসজিদে নামাযে জানাযা শেষে বনানী কবরস্থানেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বরিশালে তার জানাযায় লাখো মানুষের ঢল নামে। দাফনের সময়ে পরিবারের সদস্যরা, আইনজীবীসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় আব্দুর রহমান বিশ্বাস ইন্তিকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিলো ৯১ বছর। 

জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় বিকেল তিনটায় সংসদের সাবেক স্পিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সংসদের বর্তমান স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। জানাযার আগে স্পিকার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়াও মরহুমের কফিনে ফুল দেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংসদের প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ। বিরোধী দলের পক্ষে বিরোধী দলীয় হুইপ নূরুল ইসলাম ওমর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। উত্তর প্লাজার জানাযায় বিএনপির মওদুদ আহমদ, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, শাহজাদা মিয়া, শহিদুল হক জামাল, জহিরউদ্দিন স্বপন, মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদম মফিকুল হাসান তৃপ্তি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এর আগে বেলা ২টা ২০ মিনিটে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার কফিন নিয়ে আসা হলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কফিন প্রথমে দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেন। এরপর নেতৃবৃন্দ বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। 

নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে সাবেক রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় নামাযে জানাযায় অংশ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল মান্নান, আহমেদ আজম খান, আবদুল হালিম, নুর মোহাম্মদ খান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া,আতাউর রহমান ঢালী, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুল হাই, সিরাজুল হক, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, মীর সরফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ২০ দলীয় জোটের শামীম সাঈদী, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনিসহ সহস্রাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

অঙ্গসংগঠনের মধ্যে কাজী আবুল বাশার, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আনোয়ার হোসেইন, হেলাল খান, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, হাফেজ আবদুল মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ নেতারা ছিলেন।

জানাযার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আব্দুর রহমান বিশ্বাসের যে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দেশের সংসদের স্পিকার ছিলেন। সবশেষে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সততার সাথে। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সতিকার অর্থে একজন সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান নেতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করবার জন্যে, তিনি বাংলাদেশের মানুষের অধিকারকে রক্ষা করবার জন্যে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। দেশের ক্রান্তি লগ্নে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যখন দেশে ক্রান্তিকাল সৃষ্টি হয়েছিলো, যখন দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়া সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো তখন তার যোগ্য বলিষ্ট নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করেছিলেন। তার এই চলে যাওয়াতে দেশের রাজনীতিতে বড় শূন্যতা সৃষ্টি হলো, যা পুরণ হওয়ার নয়। আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সকল নেতা-কর্মীর পক্ষ থেকে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আব্দুর রহমান একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। তিনি সারাজীবন রাজনীতি করেছে, রাজনীতির বিভিন্ন অঙ্গনে তার অবদান রয়েছে। তিনি বিএনপির একজন দিকপাল ছিলেন, আমাদের দক্ষিণ বাংলার একজন অভিভাবক ছিলেন। আমরা তাকে হারিয়ে আমরা একজন সিনিয়র নেতাকে হারিয়েছি, দেশ একজন দেশপ্রেমিক অভিজ্ঞ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে হারিয়েছে।

আমাদের বরিশাল সংবাদদাতা শাহে আলম জানান, দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম নামাযের জানাযা বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল নগরের জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বেলা সোয়া ১১ টায় প্রথম নামাযের জানাযার নামায পড়ান ছেলে শিবলি বিশ্বাস। এরআগে সকাল সাড়ে ১০ টায় বরিশাল বিমানবন্দরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি হেলিকপ্টার সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃতদেহ নিয়ে অবতরণ করেন। সেখানে থেকে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ তার কফিন বরিশাল জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। 

তার নামাযের জানাযায় বিএনপি- আওয়ামীলীগ-জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয়পার্টিসহ নেতাকর্মীরা ছাড়াও দলমত-নির্বিশেষ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নামায শেষে লাশে ফুল দিয়ে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। পরে তার লাশ নগরের গোরাচাঁদ দাস রোডস্থ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কফিন পুনরায় বরিশাল এয়ারপোর্টে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হেলিকপ্টারযোগে ১২ টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবিৃত দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বিবৃতিদাতারা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর এ্যাড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বজলুর রহমান বাচ্চু ও অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, সেক্রেটারি জহিরউদ্দিন মু. বাবর। 

আব্দুর রহমান বিশ্বাস বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি জিয়াউর রহমান ও বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপরই তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। বঙ্গভবনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ষোড়শ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুর রহমান বিশ্বাস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ