ঢাকা, রোববার 5 November 2017, ২১ কার্তিক ১৪২8, ১৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সময় হলে প্রশাসন-পুলিশ সরকারের পক্ষে থাকবে না --- মওদুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার পরিবর্তনের গণজোয়ার এলে প্রশাসন ও পুলিশ ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থাকবে না মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সরকারকে বলব- একটা ভোট দিয়ে দেখেন, মানুষ পরিবর্তন চায় কিনা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনারা বুঝতে পারবেন, আপনাদের জনপ্রিয়তা  কোথায় নেমে গেছে। জোর করে সন্ত্রাস করে, পুলিশ দিয়ে, র‌্যাব দিয়ে কত দিন আপনারা দেশ চালাবেন?

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

 দেশের মানুষ সরকারের পরিবর্তন চায় বলে দাবি করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনের চিন্তা করে থাকলে সরকার ভুল করছে। একটা সময় আসবে... দেশের মানুষ ও প্রশাসন যখন দেখবে যে গণজোয়ার উঠে গেছে এই সরকারকে পরিবর্তন করার জন্য, তখন দেখবেন যে প্রশাসন আপনাদের পক্ষে আছে, যারা পুলিশ অফিসাররা আছেন, তারাই আবার জনগণের কাতারে এসে জনগণের সঙ্গে হাত মেলাবে, আপনাদের সঙ্গে থাকবে না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি। আইয়ুব খানের আমল থেকে শুরু করে আমরা সর্বত্র দেখেছি।

দেশে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন,  বেগম খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। শত বাধা আমাদেরকে বন্ধ করতে পারবে না, আমাদেরকে রোধ করতে পারবে না। আমাদের যাত্রাপথে যত রকমের বাধা দেন না কেন- এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, এই হামলা জনগণের অধিকার আদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আক্রমণ। দেশের মানুষ কি এত বোকা? কারা হামলা করেছে তারা জানে না? দেশের ৯৯ শতাংশ জনগণ বিশ্বাস করে এই হামলা ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা করেছে।

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। বেগম খালেদা জিয়া যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তার সঙ্গে থাকব। যেখানে খুশি সেখানে আমরা যাব এবং শত বাধা থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের মানুষের কাছে যাব, জনমত সৃষ্টি করব।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেখানে খুশি সেখানে যাবেন। শত বাধাও তার অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারবে না। বিএনপির এ অগ্রযাত্রা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

মওদুদ বলেন, সহায়ক সরকার হচ্ছে এমন একটি সরকার... আমরা নির্বাচনের সময় দেখতে চাই যে, সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না। অর্থাৎ এটা একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকতে হবে এবং নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

মওদুদ বলেন, আজকে তারা (সরকার) যদি মনে করেন এখন যে অবস্থায় আছেন তারা, ছয়মাস পরে একই অবস্থায় থাকবেন- তাহলে তারা ভুল করছেন। তাদের তখন সমঝোতায় আসতে হবে।

আর সমঝোতায় যদি না আসেন দেশের মানুষ রাস্তায় নামবে, গণবিস্ফোরণ হবে। সেই বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতীতে যেমন সরকারের পরিবর্তন হয়েছে, বর্তমান সরকারেরও ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে ইনশা আল্লাহ।

একই আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াইয়ে আমাদেরকে জয়লাভ করতে হবে। এই লড়াইয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের গণতন্ত্রের স্বপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।

তিনি বলেন, দুইভাবে আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি, দুইভাবে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি। একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা। আরেকটি হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু  নির্বাচন। যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে। এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আমাদেরকে সৃষ্টি করতে হবে। আমরা দাবি করবো আর সব হয়ে যাবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ৪৬ বছরে আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে কখনও শহীদ জিয়াউর রহমান, কখনও বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তেমনিভাবে আগামী দিনগুলো গণতন্ত্রের দিন। আগামী দিন বিএনপির দিন, খালেদা জিয়ার দিন। 

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি আমীর হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম সোহাগের পরিচালনায় আলোচনায় বিএনপির সহযুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়ার আলী নেওয়াজ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ফোরকান-ই আলম বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ