ঢাকা, সোমবার 6 November 2017, ২২ কার্তিক ১৪২8, ১৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

 রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করুন 

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে এবং বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করুন।’

প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএ ভাইস পেট্রন শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ৬৩ তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স’র (সিপিসি) উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িকভাবে আমরা এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছি।’ তিনি বলেন, তার সরকার ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে  বৈরিতা নয়’- এই নীতির ভিত্তিতে প্রতিবেশি দেশসমূহের সঙ্গে সব সময়ই সুসম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে আমরা ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি-চুক্তি এবং স্থল সীমানা চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করতে পেরেছি। একইভাবে মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।

 শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর অমানবিক নির্যাতন এবং তাদের জোরূর্বক বিতাড়িত করে দেওয়া শুধু এ অঞ্চলে নয়, এর বাইরেও অস্থিরতা তৈরি করছে।

সাম্প্রতিককালে মিয়ানমার সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সেখান থেকে ৬ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি সে দেশের নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধ জানাব রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করুন। মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে এবং বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করুন।’

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে একযোগে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতি তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যাক্ত করে বলেন, ‘কিছু মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডের ফলে নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ আজ আর কোন নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।’

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্রাক উঠিয়ে ৮ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সকলকে ঐক্যদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।’

সিপিএ চেয়ারপার্সন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার ড শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সিপিএ মহাসচিব আকবর খান, কমনওয়েলথের যুব প্রতিনিধি আইমান সাদিক এবং সিপিএ কোষাধ্যক্ষ ভিকি ডানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ’র প্রধান হিসেবে সিপিএ পেট্রন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাণী পড়ে শোনান কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড।

অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমি এবং নৃত্যাঞ্চল শিল্পীগোষ্ঠীর সৌজন্যে বাংলাদেশের ইতিহাস ও কৃষ্টি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বেশ কিছু বর্ণাঢ্য প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে যেসব সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এ বছর অতিবৃষ্টিসহ কয়েক দফা বন্যার ফলে আমাদের বিশাল জনপদ ভেসে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য যেসব সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, এই ঐতিহাসিক নগরী ঢাকায় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের ৬৩তম সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং তার নিজের পক্ষ থেকে সকল অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের প্রথম ও প্রধান নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্র এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা এবং এসব রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থা তৈরি করা।

সিপিএ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ যৌথভাবে ‘কনটিনিউয়িং টু এনহান্স দ্যা হাই স্ট্যান্ডার্ডস অব পারফরমেন্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছে।

এতে ৫২টি দেশের ১৪৪টি জাতীয় ও ৪৪টি প্রাদেশিক সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ ৫৫০ এর অধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

 শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে সিপিএ-এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সিপিএ-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।

 শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত শক্তিশালী করার মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যে আমরা রূপকল্প-২০২১ প্রণয়ন করি। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে আমরা আমাদের কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ