ঢাকা, সোমবার 6 November 2017, ২২ কার্তিক ১৪২8, ১৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচন কোনো ক্রমেই শেখ হাসিনার অধীনে হবে না  ---ড. মোশাররফ

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো ক্রমেই শেখ হাসিনার অধীনে হবে না, হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা শুরু -এই নির্বাচনগুলো আমরা দেখতে চাই।

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা এই নির্বাচনটার মাধ্যমে বলতে চাই, সিটি কর্পোরেশনের যে নির্বাচনগুলো সামনে আসবে- এটা একাদশ জাতীয় সংসদের পূর্বের নির্বাচন। এটা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য একটি পরীক্ষা শুরু -এই নির্বাচনগুলো আমরা দেখতে চাই। এই পরীক্ষাগুলো তাদের (ইসি), আমরা পর্যবেক্ষণ করবো। এসব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ডিসাইড করে দেবে আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, আগামী দিনে বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার সকালে ২১ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এম নূরুল হুদা  রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী এ সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ভোট হয়। নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চের মধ্যে রংপুরে নির্বাচন করতে হবে।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, যদি সরকার পুনরায় গায়ের জোরে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, আবার যদি ২০১৪‘র মতো নির্বাচনের দিকে যায় তাহলে দেশের জন্য এবার আর ক্ষমা করবে না। ইনশা আল্লাহ এদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া  হবে।

 সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একাদশ নির্বাচন কোনো ক্রমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হতে দেয়া হবে না। কারণ এই সরকারকে জনগণ প্রত্যাখান করেছে, তাদের জনসমর্থন শূন্য। তারা জোর করে আবারো ২০১৪ সালের মতো একটি নির্বাচন করতে চায়।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো ক্রমেই শেখ হাসিনার অধীনে হবে না, হতে দেয়া হবে না। আমরা এই দেশে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার আদায় করে, জনগণকে নিয়ে আদায় করে ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করবো।

আগামী নির্বাচনেই বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটবে উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের জনগণ অপেক্ষা করছে আমাদেরকে বিপুল ভাবে নির্বাচিত করে এই আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য দেশনেত্রীর নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

আমি সবাইকে বলতে চাই, সময় শেষ হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগ অনেক আবোল তাবোল করবে। জ্বর বেশি হলে অনেক আবোল-তাবোল বলে। সে সবের দিকে আপনারা কান দেবেন না। আওয়ামী লীগের পতনের সব রকমের যে নমুনা আমরা দেখতে পারছি, ঘণ্টা বেজে গেছে। আওয়ামী লীগের অধঃপতন ও বিএনপির উত্থান আগামী ২০১৮ সালে হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সংগঠনের সহসভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল জয়নাল আবেদীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমীনসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ