ঢাকা, সোমবার 6 November 2017, ২২ কার্তিক ১৪২8, ১৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাস্তি নয় রোহিঙ্গা সমস্যার  সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চাইতে চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের দিকেই নজর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকা সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শ্যানন বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের কূটনৈতিক সমাধানেই জোর দিচ্ছে তার দেশ।

গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ষষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বমূলক সংলাপ শেষে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন শ্যানন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। এর আগে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠ অংশীদারিত্ব সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল হক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শ্যানন।

গত বছর গণতন্ত্রে ফেরার পর মিয়ানমারের উপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে কিছু অবরোধ ফের আরোপের চিন্তাভাবনা করছে তারা। এজন্য গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাবও তোলা হয়। প্রস্তাবটি পাস হলে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের উপর সুনির্দিষ্ট অবরোধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মিয়ানমার বলছে, অবরোধে পরিস্থিতি আরো খারাপই হবে।

এখনই অবরোধে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিক সম্মেলনে শ্যানন বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমস্যার সমাধান করা এবং এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা।

আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করাসহ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়।

বাংলাদেশের প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়েই গত ৩১ অক্টোবর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেরির জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরের মহা পরিচালক জ তাই। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গত শুক্রবার বাংলাদেশে আসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের নেতা সিমন হেনশ বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের।

অবরোধের সুযোগ তো রয়েছেই জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শ্যানন বলেন, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমস্যার সমাধান করা এবং এই সঙ্কটের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান শ্যানন।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কাজ করছে সেজন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘শক্ত’ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মানবিক সহায়তা দিচ্ছে এবং সঙ্কট সমাধানে অন্তত ৩১ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। রোহিঙ্গা ছাড়াও আমরা আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। 

যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এসব পদক্ষেপ সঙ্কট সমাধানে কি ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে, জানতে চাইলে মার্কিন কূটনীতিক শ্যানন বলেন, এসব পদক্ষেপের কারণে সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারে ঢোকার সুযোগ পেয়েছে। রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের অনুমতিও পাওয়া গেছে, বলেন তিনি।  

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের মধ্যে বার্ষিক এই অংশীদারিত্বমূলক সংলাপে মূলত দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। তবে এবার আলোচনার বড় একটা অংশ জুড়েই ছিল রোহিঙ্গা সঙ্কট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ