ঢাকা, সোমবার 6 November 2017, ২২ কার্তিক ১৪২8, ১৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ-শ্রমিকলীগ মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

বগুড়া অফিস : এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জের ধরে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দুই নেতার সাথে শহর শ্রমিকলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলরের বিরোধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতাসিন আওয়ামীলীগের দুই সংগঠনের নেতাকর্মিরা মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে। যেকোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান শাহিন অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন যাবত বগুড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইবরাহিম হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে এবং জেলা স্বেচ্ছাবেকলীগের অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্তকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ নভেম্বর রাতে কাউন্সিলর ইবরাহিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী শাহিন ও শান্তর বাসভবনে গিয়ে দরজা ভাচংুরের চেষ্টা চালায়। তারা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে হত্যার হুমকি দেয়। পরদিন কাউন্সিলর নিজেই শাহিন এবং শান্তর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার ফটোকপি এলাকায় বিতরণ করেন।

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহিন আরও অভিযোগ করেন, “কাউন্সিলর ইবরাহিম নিজেই একজন মাদক ব্যবসায়ী। চোরাকারবারি ও বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলা বিচারাধিন। কয়েকদিন পূর্বে এলাকায় মাইকিং করে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু পরে জানা গেল কাউন্সিলর বেশি লাভের আশায় নিজের লোকজনকে দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেই এসব করেছে।”

শাহিন আরো অভিযোগ করেন, “কাউন্সিলর ইবরাহিম একজন মাদকসেবি। ইতোপূর্বে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন লোকের ঘরে প্রবেশ করে নারী নির্যাতন করায় এলাকার নারী সমাজ তার বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল বের করেছিল। সে সময় তাকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলর ইবরাহিম ও তার শ্যালক শিবলুর বিরুদ্ধে হিন্দু নারীদের মারপিট ও নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে।”

কাউন্সিলর ইবরাহিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বেচ্ছাবেকলীগ নেতা শাহিন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অবিলম্বে ইবরাহিমের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা না নিলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বগুড়া শহর শ্রমিকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইবরাহিম হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, স্থানীয় মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন যাবত কাউন্সিলর ইবরাহিম হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জুলফিকার রহমান শান্তর বিরোধ চলে আসছে। একাধিকবার উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুুহূর্তে বড়ধরনের সংঘর্ষ বাঁধতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন। তারা প্রাশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ