ঢাকা, মঙ্গলবার 7 November 2017, ২৩ কার্তিক ১৪২8, ১৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা-কলকাতা ট্রেনের ভাড়া চেয়ার ১০ কেবিন ১৫ ডলার

খুলনা অফিস : খুলনা-কলকাতা রুটে ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেস ট্রেন পরীক্ষামূলক ভাবে ছুটবে আগামী ৯ নবেম্বর। এদিন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন। এরপর ৯ নবেম্বর বেলা ১১টায় কলকাতা থেকে ট্রেনটি যাত্রা শুরু হবে। প্রথম দিনে অবশ্য সাধারণ যাত্রীরা ওই ট্রেনে যাত্রা করতে পারবেন না। বাণিজ্যিক ভাবে যাত্রা শুরু হবে ১৬ নবেম্বর। এ রুটে চেয়ার কোচে ১০ ডলার ও কেবিনে ১৫ ডলার ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য শিগগিরই ট্রেনের টিকিট ছাড়া হবে। বাংলাদেশের বেনাপোলে এবং ভারতের কলকাতা আন্তর্জাতিক টার্মিনালে কাস্টমস ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে। রোববার রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধনের যাত্রার তারিখ ও ভাড়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও-কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বন্ধন’-এর যাত্রার উদ্বোধন করবেন। এরপর কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়বে নতুন ট্রেন। এ যাত্রায় কলকাতা আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে ভারতের রেল কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল খুলনায় আসবেন। সেদিন রাতেই তারা কলকাতা ফিরে যাবেন। এরপর ১৬ নবেম্বর বৃহস্পতিবার এ রুটে যাত্রী নিয়ে যাত্রা করবে ট্রেন।
রেলের বিভাগীয় (পাকশি) ম্যানেজার ওয়াসিম কুমার তালুকদার বলেন, খুলনা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের পাশেই আলাদা কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত যাত্রার টিকিট পাওয়া যায়নি। টিকিট আসলেই যাত্রীদের জন্য বিক্রি করা শুরু হবে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানায়, দ্বিতীয় মৈত্রী ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসটি হচ্ছে ভারতীয় রেল। কলকাতা থেকে খুলনার দূরত্ব কম বেশি ১৭৭ কিলোমিটার। এই পথ অতিক্রম করতে বন্ধন সময় নেবে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। ‘বন্ধন’ সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা থেকে ছেড়ে দুপুরে খুলনা পৌঁছাবে। একঘণ্টা বিরতি দিয়ে সন্ধ্যার আগেই কলকাতার আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ফিরবে। এতে ১০টি কোচ থাকবে। যাতে ৪৫৬টি সিট। এর মধ্যে ১৪৪টি কেবিনের সিট এবং চেয়ার কোচ ৩১২টি। তবে প্রাথমিক প্রস্তাব ছিল-চেয়ার কোচে আট ডলার এবং কেবিনে ১২ ডলার। তবে দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চেয়ার কোচে ১০ ডলার এবং কেবিনে ১৫ ডলার ভাড়া চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশের বেনাপোলে এবং ভারতের কলকাতা আন্তর্জাতিক টার্মিনালে কাস্টমস ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে খুলনা রেল স্টেশনে কাস্টম ইমিগ্রেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী বন্ধন এক্সপ্রেস বাণিজ্যিক ভাবে চলাচল শুরুর কথা ছিল চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১ জুলাই ও তৃতীয় দফায় ৩ আগস্ট ট্রেনটি চালুর উদ্যোগ নিলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। এর আগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল খুলনা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ পরীক্ষামূলক চলাচল করে।   
উল্লেখ্য, পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আগে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত। এছাড়া রাজবাড়ির গোয়ালন্দ থেকেও ট্রেন যেত কলকাতায়। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই রেল যোগাযোগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ