ঢাকা, বুধবার 8 November 2017, ২৪ কার্তিক ১৪২8, ১৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রহস্যময় নিউপোর্ট টাওয়ার

এম এস শহিদ : পৃথিবীতে এমন অনেক অট্টালিকা, পাহাড়, গুহা রয়েছে যেগুলো রহস্যময়। গবেষকরা এখনও এসবের রহস্যের উৎঘাটন করতে পারেনি। এমনই একটি রহস্যময় টাওয়ারের নাম যুক্তরাষ্ট্রের নিউপোর্ট টাওয়ার। এ টাওয়ারটি আরও কয়েকটি নামে পরিচিতি। যেমন রাউন্ড টাওয়ার, নিউপোর্ট স্টোন টাওয়ার, বা ওল্ড স্টোন মিল।
যুক্তরাষ্ট্রের রোদ দ্বীপের নিউপোর্ট এলাকার টাউরো পার্কে এ টাওয়ারটি অবস্থিত। সম্পূর্ণ পাথরে তৈরি এ টাওয়ারটি ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণ করা হয়। এটির উচ্চতা প্রায় ২৮ ফুট। এক সময় এ টাওয়ারের দেয়াল সাদা প্লাস্টার দ্বারা আবৃত ছিল। বর্তমানে বাইরের দেয়ালে তার কিছু নমুনা দেখা যায়।
আটটি কলামের ওপর টাওয়ারটি দাঁড়িয়ে আছে। আটটি কলামের মধ্যে দুটি কলাম অন্য ছয়টি কলামের চেয়ে বড়। কলামগুলোর গায়ে ডোরাকাটা দাগে আঁকা হয়েছে নানা প্রজাতির প্রাণীর ছবি, নাম ও আরও অনেক কিছু। শক্ত ও পুরু করে টাওয়ারের দেয়ালগুলো তৈরি করা হয়েছে। এ নিউপোর্ট টাওয়ারে রয়েছে সাতটি জানালা ও এর ওপরের স্তরে ছোট আরও তিনটি জানালা রয়েছে।
এ নিউপোর্ট টাওয়ারের আশপাশে বিভিন্ন সময়ে তৈরি ছোট বড় আরও কিছু টাওয়ার রয়েছে ১৭৪১ খৃষ্টাব্দের দিকে পাথরের মিল হিসেবে এ টাওয়ারটি ব্যবহৃত হতো। ১৭৬৭ সালে এটি পাউডারের মিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এবং এ টাওয়ারটি আমেরিকান বিপ্লবের সময় ক্যাম্প ও ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
আমেরিকান ্িবপ্লবের পর থেকে এ টাওয়ারের রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। আমেরিকান গবেষক ও প্রকৌশলী জিম ব্রানডেন নিউপোর্ট টাওয়ারকে কেনো রহস্যময় টাওয়ার বলা হয় তার কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করেছেন। ব্রানডেন প্রায় এক বৎসর ধরে এ টাওয়াররের উপকরণ লেখা ও কারুকার্য নিয়ে গবেষণা করে দেখেন নিউপোর্ট টাওয়ারটি যে পাথর দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে তা প্রাচীন চুম্বক জাতীয় । এ চুম্বক জাতীয় পাথরের গায়ে আছে চৌম্বক ক্ষমতা যা অনায়াসেই লৌহ জাতীয় পর্দাথকে আকর্ষণ করে। তাছাড়া এ টাওয়ারের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় মানুষের পায়ের চিহ্ন, প্রাচীন নকশা ও মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গিয়েছিল।
এসব বিষয় থেকে অনুমিত হয়, প্রাচীনকাল বা আমেরিকান বিপ্লবের সময় এ টাওয়ারটিতে মানুষ হত্যা করা হতো। অপরাধের জন্য অপরাধীকে এখানে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হতো। ১৯৪৬ সালের দিকে অধ্যাপক পি লভফোল্ড নামক এক গবেষক সুইডেন ও নরওয়েতে ১৪ ফুট উচ্চতার একই ধরণের টাওয়ারের সন্ধান পান।
আবার স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস দ্বীপেও একই ধরণের টাওয়ারের সন্ধান মিলেছে। গবেষকদের মতে স্কটল্যান্ডের টাওয়ারটি ১১১৫ সালে এবং নেদারল্যান্ডের টাওয়ারটি ১১৬০ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। নিউপোর্ট টাওয়ারের সাথে এসব টাওয়ারের মিল থাকায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একই ধরণের টাওয়ার অতীত কালে কি কারণে তৈরি করা হয়েছিল তা নিয়ে গবেষকদের মাঝে মতভেদ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গভীর রাতে নিউপোর্ট টাওয়ারে কান পাতলে দূর থেকে ভেসে আসা কান্নার শব্দ শোনা যায় বলে অনেকে বলে থাকেন। রোদ দ্বীপের প্রথম গভর্নর বেনেডিক্ট আর্নল্ড নিপোর্ট টাওয়ারটি তৈরি করেন। চেষ্টারটনের নিকটে লিমিংটন শহরে বেনিডিক্ট আর্নল্ড জন্মগ্রহণ করেন। ফলে তিনি ওই টাওয়ারের অনুকরণে এই টাওয়ারটি সহজে তৈরি করতে পেরেছিলেন। পাথরের মিল হিসেেেব ব্যবহার করার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা হচ্ছে এ নিউপোর্ট টাওয়ার। এ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে মার্কিনিদের মাঝে রয়েছে বিশেষ কৌতূহল।
একই রকমের স্থাপনা বিশ্বের কয়েকটি স্থানে অবস্থিত হওয়ায় অনেকে এটিকে সন্দেহের চোখে দেখে থাকেন। তবে এ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে কোনো রহস্য আছে কিনা তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমনো হতে পারে তৎকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই রকমের পাথরের মিল নির্মাণ করা হয়েছিল- যেটা কেবলই অতিসাধারণ বা কাকতালীয় ঘটনা যা রহস্যময় নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ