ঢাকা, বুধবার 8 November 2017, ২৪ কার্তিক ১৪২8, ১৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যবস্থাপকের অনিয়মে চরম ভোগান্তি পেনশনভোগীদের

সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপকের স্বাক্ষর সম্বলিত নতুন নিয়ম ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সোয়েব চৌধুরীর মনগড়া নিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে পেনশনভোগীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। ঘন্টার পর ঘন্টা সরকারি ভাতা পাওয়ার জন্য বসে থাকার পরও অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাচ্ছেন না পেনশনভোগীদের ন্যায্য অধিকার।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার ও আজ সোমবার সকাল ১১টায় সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখায় গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। পেনশনভোগী ছাড়াও গ্রাহকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
পেনশনভোগী আবদুর রব মাস্টার, সাবেক সরকারি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মোঃ ওয়াজী উল্যাহ, জয়নাল আবেদীন, আবদুল মতিন, মোহাম্মদ উল্যা, আবুল বাশার, আবুল কাশেম মাস্টার, নুরুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিগত সময় পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা থেকে মাসের প্রথম সপ্তাহে পেনশন পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপক এ ব্যাংকে যোগ দেয়ার পর থেকে নতুন নতুন নিয়ম করায় পেনশনভোগী ছাড়াও ব্যাংকের গ্রাহকরা পড়েন চরম বিপাকে।
সরকারি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চলতি মাসের ১ তারিখে কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ব্যাংকের দেয়ালে ২২০০ থেকে ২৪০০ (আংশিক) কোর্ডধারী ৭ থেকে ১০তারিখ, অন্যান্য কোর্ড ১১ থেকে ১৫ তারিখ ও ২২০০ থেকে ২৪০০ কোর্ড (আংশিক) ১৫ থেকে ২০ তারিখে নেয়ার জন্য নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়। এতে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দুর থেকে আসা পেনশনভোগীরাসহ প্রায় ২ হাজার গ্রাহক পড়েন চরম দুর্ভোগে। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পরও ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে তারা কোন সদুত্তোর পায়নি। উপরুন্ত শাখা ব্যবস্থাপক তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী পেনশনভোগীরা আরো জানান, আমরা বিভিন্ন দোকান থেকে মাসের বাজার করে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের দেনা পরিশোধ করি। নতুন এ নিয়মের কারণে আমরা পড়েছি বিপাকে। মাসের প্রথম দিকে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও মাসের শেষে ব্যাংক থেকে পেনশন প্রদানের কারণে হেনস্থার শিকার ও দূর থেকে যাতায়াতের কারণে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
রামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোঃ শহিদ উল্যাহ ও চাটখিল সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ এ কে এম নুরুল ইসলাম (কালাম প্রফেসর) এ ব্যপারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোঃ সোয়েব চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
আজ সোমবার সকাল ১১টায় সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সোয়েব চৌধুরীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এমনটা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর শাখায়ও এমন আইন রয়েছে।
কোন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে না দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তা মৌখিকভাবে এ নিয়মের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো জানান, কয়েক হাজার গ্রাহকদের লেনদেন তার উপর প্রায় দুই হাজার পেনশনভোগীদের টাকা প্রদানে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে এমনটা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ