ঢাকা, বুধবার 19 September 2018, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টেনারী বর্জ্যে ঝুঁকিতে ধলেশ্বরী

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:বর্জ্যের চাপে আগেই ভেঙ্গে গেছে চামড়া শিল্পনগরীর ডাম্পিং ইয়ার্ডের দেয়াল, এবার প্রকাশ্যেই ট্যানারির দূষিত পানি ধলেশ্বরীতে ফেলছে বিসিক। এতে প্রকল্পের আশেপাশের জনপদের সঙ্গে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ।

এরপরও এসব অনিয়মকে পাশ কাটিয়ে পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে তৃতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ পরিবেশবিদরা, তাদের দাবি, প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিসিক।

ভুক্তভোগী দুজনের বসবাস চামড়া শিল্পনগরীর বিপরীতে ধলেশ্বরীর তীরে, তাদের বক্তব্যেই পরিষ্কার কতোটা গাফিলতি হয়েছে প্রকল্পটি নির্মাণে।

এবার আসা যাক, শিল্পনগরীতে, নদী তীরে যেতেই চোখে পড়বে বিশাল আকারের দুটি পাইপ, যেখান থেকে বিরামহীন তরল বর্জ্য পড়ছে ধলেশ্বরীতে। একটু এগোতেই দেখা মিলবে, প্রকল্পের মুল নকশায় না থাকা অবৈধ ডাম্পিং ইয়ার্ডের, সপ্তাহখানেক আগে যার দেয়াল ভেঙ্গে সব বর্জ্যের ঠাই হয়েছে ধলেশ্বরীতেই।

এরপরও এসব অনিয়ম আড়াল করে বিসিকের দেয়া পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটির মেয়াদও। যদিও পরিকল্পনামন্ত্রীর দাবি, বড় প্রকল্প হওয়ায় এর বাস্তবায়ন কঠিন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, 'এটি অনেক বড় প্রকল্প। একদিনে এখানে পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা যাবে না। আমাদেরকে সময় দিতে হবে।'

সম্পূর্ণ চালুর আগেই প্রকল্প এলাকার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ পরিবেশবিদরাও। তাদের দাবি, সময় বাড়াতে নয় প্রকল্প দরকার দূষণ কমাতে।

সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, 'সঠিক পরিকল্পনা না করে, চামড়া শিল্পকে বাঁচানোর নামে এভাবে পরিবেশ ধ্বংস করাকে তো কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।'

দূষণরোধে ২০১৪ সালে শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার তৈরি শুরু করে সরকার। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে যার চারটি মডিউল কখনোই একসঙ্গে চালু করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেএলইপিসিএল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ