ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 November 2017, ২৫ কার্তিক ১৪২8, ১৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাভারের ট্যানারির তরল ও কঠিন বর্জ্যে ধলেশ্বরী নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ার অভিযোগ

সাভার সংবাদদাতা : সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর বিভিন্ন ট্যানারি থেকে ফেলা তরল ও কঠিন বর্জ্যের কারণে ধলেশ্বরী নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি। এছাড়া ট্যানারির পাশে অবস্থিত ঝাউচর গ্রামে কোন জমিতে ফসলও হচ্ছে না। এমন অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। সকালে তারা হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় বিভিন্ন ট্যানারি পরিদর্শন করেন। পরিবেশবাদীরা বলছে সাভারের ট্যানারিশিল্পের বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে শিল্প এলাকার চারপাশের পরিবেশ এবং ধলেশ্বরী নদী দূষিত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব দূষণ বন্ধ করতে হবে।
এবিষয়ে সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আসে ট্যানারিশিল্প থেকে। কিন্তু দূষণের মতো বদনাম কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। 
এদিকে চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, ট্যানারি পল্লীর উত্তর ও দক্ষিণ পাশের সীমানাঘেঁষে ফেলা হচ্ছে ট্যানারি বর্জ্য। ট্যানারি পল্লীর একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে ট্যানারি পল্লীর জন্য ডাম্পিং স্টেশন তৈরির জায়গা রাখা হয়েছে। কিন্তু সেটি এখন পাঁচ বিঘা জমির ওপর অনেকটা পুকুরের মতো। এখন এই পুকুর ভরে গেছে ট্যানরির বর্জ্যে। এখানে ফেলা সলিড বর্জ্য এবং ঝিলির অংশ ফেলায় সেগুলো গড়িয়ে পড়ছে কঠিন বর্জ্যে। ট্যানারির বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত এসব বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদীর পানিতে। ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ফলে নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। ট্যানারির বর্জ্য এখন এ এলাকা এবং এ উপজেলার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত হচ্ছেন কারখানার শ্রমিকেরাও। এ বিষাক্ত বর্জ্যে ধলেশ্বরীর স্বাভাবিক রঙ পাল্টে গেছে। দেখা দিয়েছে মাছের মড়ক। এলাকাবাসীর অভিযোগ ইতোমধ্যে ধলেশ্বরী নদীর মাছও মারা যাচ্ছে। বর্জ্যের বিষক্রিয়ায় আবাদি জমির ফলনও অনেকগুণ কমে গেছে। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঝাউচর গ্রামের কৃষি জমি আবার অনেক স্থানে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাড়ি ঘরে পানি জমেছে। রাত হলেও দুর্গন্ধর জন্য ঘরে থাকা যায় না। এছাড়া ট্যানারির ভিতরের রাস্তা ঘাট ও ভাঙ্গা। বিভিন্ন স্থানে এক হাটু করে পানি জমেছে। এলাকাবাসী এ থেকে রেহাই পেতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে সাভার উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল আলম সমর বলেন ট্যানারির কারণে ঝাউচর এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে,সমস্য সমাধানে দ্রুত সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
ঝাউচর এলাকায় ফসলী জমি নষ্ট হওয়ার কারণে ওই এলাকার কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ-আলম।
এবিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) এর ডেপুটি ম্যানেজার মো: মোস্তফা মজুমদার বলেন সমস্যা সমাধাধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্যানারি পরিদর্শনে এসময় উপস্থিত ছিলেন সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক, সহ-সভাপতি রোকেয়া হক, ইউপি সদস্য আলমাস সরকারসহ আরে অনেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ