ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 November 2017, ২৫ কার্তিক ১৪২8, ১৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের রুলবুক তৈরির আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : জবাবদিহিতার ব্যবস্থাসহ সবাইকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্যারিস জলবায়ূ চুক্তি বাস্তবায়নের রুলবুক তৈরির আহবান জানিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক সমাজ।
বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৩) উপলক্ষে গতকাল বুধবার জার্মানির বনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে  বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক সমাজ এ আহ্বান জানিয়েছেন। বন জলবায়ু সম্মেলন মিডিয়া সেন্টারের ২ নং সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত “কপ-২৩ থেকে অতি বিপন্ন এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষের প্রত্যাশা” শীর্ষক এই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভারতের ক্লাইমেট একশান নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া-এর সন্তোষ পাটনায়েক, শ্রীলংকার সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস-এর হেমান্তা উইথানাগে এবং বাংলাদেশ থেকে কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ-এর জাহাঙ্গীর হোসেন মাসুম, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড-এর জিয়াউল হক মুক্তা। মূল অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের ইক্যুইটিবিডি’র সৈয়দ আমিনুল হক।
মূল অবস্থানপত্রে বলা হয়, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিস্ক্রিয়তার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ইতিমধ্যে শূণ্য দশমিক ৮৫ ডিগ্রি হয়ে গেছে। এতে করে জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব ব্যাপী বৈষম্য বাড়ছে, বিপদাপন্ন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে জীবন জীবিকার উপর আঘাত করছে। তাই প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে যে রুলবুক তৈরির কথা বলা হচ্ছে, তা তৈরি হতে হবে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে, এর লক্ষ্য হতে হবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনা।
জাহাঙ্গীর মাসুম বলেন, রুলবুক প্রণয়ন পদ্ধতি নিয়ে আমরা শঙ্কিত, কারণ এটি তৈরি করছে ধনী দেশগুলো।  আমাদের আশংকা হচ্ছে, ধনী দেশগুলো এই প্রক্রিয়াটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা চেষ্টা করবে। তাই আমাদের দাবি হলো, প্যারিস রুলবুক যেন শুধু একটি কাগুজে দলিল না হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিরসন এবং অর্থায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ হয়।
সান্তোষ পাটনায়েক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফরে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে আছে। কপ-এর আলোচনায় বাস্তুচ্যুত মানুষদেরকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানান্তরিত করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।
হেমান্তা উইথানাগে বলেন, ধনী দেশগুলোকে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণের কথা মনে করিয়ে দিতে হবে, এবং তাদেরেেক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না, কিন্তু মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল ভোগ করছে। এর ফলে অনেক দেশকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বাজেটে বড় অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। ধনী দেশগুলোকে তাই নিজেদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে বিপন্ন দেশগুলোর কথা ভাবতে হবে।  
জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, প্যারিস চুক্তি হলেও এর ফলাফল নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না। আমরা আশা করি, প্যারিস রুলবুকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপুর্ণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ