ঢাকা, রোববার 12 November 2017, ২৮ কার্তিক ১৪২8, ২২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চীন রাশিয়া ও ভারতের স্বার্থগত কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সুদূরপরাহত

গতকাল শনিবার রাজধানীতে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক সিপিডি সংলাপে অতিথিবৃন্দের একাংশ -সংগ্রাম

** ‘শিগগির’ মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি -পররাষ্ট্র সচিব
** ১০ মাসে রোহিঙ্গাদের পেছনে ব্যয় হবে ৭১২৬ কোটি টাকা
** জরুরিভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের তাগিদ
স্টাফ রিপোর্টার : চীন, রাশিয়া ও ভারতের স্বার্থগত কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সুদূরপরাহত বলে মন্তব্য করেন সাবেক কূটনীতিক, গবেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মীরা। একই সাথে তারা বলেন, রাখাইনে জেনোসাইড (গণহত্যা) চলছে। জেনোসাইড কখনোই দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক ইস্যু। তাই রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে। এ জন্য বাংলাদেশের উচিত হলো জরুরিভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের খাজানা হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে ‘শিগগির’ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, চুক্তির খসড়া তৈরি হয়ে গেছে। খুব শিগগির এ চুক্তি হয়ে যাবে।
সিপিডি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব প্রধান অতিথি ছিলেন। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনা. (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ মূসা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
সিপিডি’র বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিজ) এর চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনা. আবুল হোসেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রি. জে. (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন, মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত খালেকুজ্জামান, মাহমুদ হাসান ও রাশেদ হাসান, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রওনক জাহান, বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, ইউএনডিপি’র আসিফ মুনীর প্রমুখ। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
 মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ চাকমা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু জটিল সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এটা আমাদের বুঝতে হবে যে, রোহিঙ্গা ইস্যু অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা। মিয়ানমারে বিনিয়োগ করা রাষ্ট্রের মধ্যে চীন সবার প্রথম। শুধুমাত্র কাচিনের একটি হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টেই ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এ কারণে চীন রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রশ্নে চুপ রয়েছে। সব দিক থেকে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে চীন। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রেজ্যুলেশন আনতে চীন ভেটো দিচ্ছে। মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রয়েছে ভারত, রাশিয়ারও। এছাড়া থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ রয়েছে। মূলত তাদের বিনিয়োগ তথা স্বার্থের কারণেই এসব দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে না। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কসোভো, সিরিয়ার মতো মিয়ানমারেও আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী পাঠানো উচিত বলে মনে করেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক এ রাষ্ট্রদূত।
উচ্চতর পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর জোর দিয়ে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সংকট সমাধানে প্রথমে আমাদের নির্ধারণ করতে হবে রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিবো কি-না সে বিষয়ে। বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট ১৯৭০ বা ১৯৯০ সালের মতো নয়। এখনকার পরিস্থিতি খুবই জটিল। মুসলমান হিসেবে নয়, বাঙালি হিসেবে তাদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে। একটি সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই গণহত্যা। এ সমস্যা সমাধানে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে তা যথেষ্ট নয়। আরো উচ্চতর পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।  স্বার্থগত কারণে চীন ও ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগ্রহী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আরো বলেন, যখন কোনো জাতি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে গণহত্যা পরিচালিত হয়, তখন এটা আর দুই দেশের ইস্যু থাকে না। বিষয়টা তখন আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের শরণার্থী (রিফিউজি) বলতে হবে এবং অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্য চীন, রাশিয়া ও ভারতে শক্তিশালী প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরামর্শ দেন এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের উচিত জরুরিভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা। আর এ সম্মেলনে চীন, ভারত, রাশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ করা। তাদেরকে এ বার্তা দিতে হবে যে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কারণে যদি উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ তথা অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয় তবে বিশ্ব এ থেকে রেহাই পাবে না।
মিয়ানমারে বাংলাদেশের আরেক সাবেক দূত মোহাম্মদ মুসা বলেন, রোহিঙ্গাদের দায় শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও। এ সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, যেসব দেশ মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেরও ভাল সম্পর্ক রয়েছে। এসব দেশে শক্তিশালী প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে তাদের বুঝাতে হবে। তিনিও ভারত, চীন ও রাশিয়ায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এরপরও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে। মিয়ানমার সফরে গিয়ে ২৩ নবেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নেপিদো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ সংক্রান্ত চুক্তির যে খসড়া, তা তৈরি হয়ে গেছে। খুব শিগগির চুক্তিটা হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান চালাচ্ছে, এটা আমরা সরাসরি বলতে চাই না। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী নই। শুধুমাত্র মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছি। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ একটি সহানুভূতিশীল ( রেসপনসিভ) দেশ হতে চায়। রোহিঙ্গা সঙ্কটের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি দেখার জন্য আমরা সবাইকে বাংলাদেশে আসার ব্যবস্থা করছি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো পর্যন্ত আনান কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি। এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট বোঝা। বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের আর্থিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা দরকার। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ বা সহযোগিতা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের দেশে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।
সরকারের অতি সতর্কতার দিকে ইঙ্গিত করে শহীদুল হক বলেন, সবকিছুর পরও মনে রাখতে হবে মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কীভাবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করা যায়, বিষয়টি নিয়ে আরো সিরিয়াস চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। কেননা, রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে অবস্থান করলে আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়বে। রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে জাতিগত সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেনাবাহিনী এসব ইস্যু জিইয়ে রাখে, তারাই এর সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের হাতেই এর চূড়ান্ত সমাধান রয়েছে। তবে জাতিগত নিধন বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, সিপিডি ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) গবেষণা করে দেখেছে, চলতি ২০১৭-’১৮ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর থেকে জুন এই ১০ মাসে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা (৮৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ লাগবে। একজন রোহিঙ্গার জন্য ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৩৯ টাকা। যা আমাদের মোট বাজেটের ১ দশমিক ৮ শতাংশ। আর মোট রাজস্বের ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে তাদের জন্য আগামী এক বছরে সরকারের কমপক্ষে ১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা আমাদের বাজেটের দশমিক ৪ শতাংশ। আর মোট দেশজ উৎপাদনের দশমিক ১ শতাংশ।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরুর পর সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে এ সংকট তৈরি হয়। এদিক থেকে চলতি অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত মাসগুলোকে এই গবেষণায় হিসাব করা হয়। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, রেডক্রস সোসাইটিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মগ সেনাদের পরিকল্পিত এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে এবং অং সান সু চিসহ মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ব সরব রয়েছে।
 রোহিঙ্গা সংকটের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সমস্যায় পড়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ওপর। এই তিন খাতে বাংলাদেশ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ায় জীবন যাপনের ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় সামাজিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জনসংখ্য বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সমস্যা, স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা দেখা দিয়েছে।
 রোহিঙ্গা সংকটে পরিবেশের ওপর প্রভাব তুলে ধরে ড. ফাহমিদা বলেন, কক্সবাজারে মোট বনভূমির পরিমাণ ২০ লাখ ৯২ হাজার ১৬ একর। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দানে এরই মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ একর বনভূমি ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকায় বায়ু দূষণ, ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সিপিডি’র পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে আরো প্রবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এ সংকট স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় সমাধানযোগ্য নয়, এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুদান বা ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের মতো দাতা সংস্থাগুলো অন্য সেক্টরের সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে হবে না। আরো নমনীয় হয়ে অনুদান প্রদান করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প বা এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও  সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক চোরাচালান বন্ধে জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অনেকগুলো অর্থনৈতিক জোটে জড়িত। তাই বাংলাদেশ চাইলেও অনেক কিছু করতে পারে না। রোহিঙ্গা ভিত্তিক উগ্রপন্থি গ্রুপ আরসা (এআরএসএ) মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সৃষ্টি বলে মনে করেন তিনি। সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জিহাদ বা মিলিট্যান্সি দুটোই জটিল বিষয়। এখন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের ওপর বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যূতে চীন, রাশিয়া ও ভারত মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করছে। রাখাইনে যা ঘটেছে এবং ঘটছে তা স্পষ্টত গণহত্যা।
মিয়ানমারে বাংলাদেশের আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত খালেকুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের রিমোট কন্ট্রোল চীনের হাতে। এর সাথে রয়েছে আরো কয়েকটি রাষ্ট্র। এ সংকট সমাধানে বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ