ঢাকা, সোমবার 13 November 2017, ২৯ কার্তিক ১৪২8, ২৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বৈরশাসক ও জনগণের শক্তি

বড়-বড় রাষ্ট্রগুলোর আচার-আচরণে সন্তুষ্ট নয় পৃথিবীর সাধারণ মানুষ। আবার উত্তর কোরিয়ার বেপরোয়া আচরণে বেজায় অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে পৃথিবীর বড়-বড় রাষ্ট্রগুলো। আসলেই অদ্ভুত ও অনাকাক্সিক্ষত এক বিশ্বব্যবস্থায় এখন আমাদের বসবাস। এমন এক প্রেক্ষাপটে এশিয়া সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়া ইস্যু সমাধানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রতি আরও বেশি কিছু করার এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে ৯ নভেম্বর বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপল-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ওই আহ্বান জানান। বর্তমান পৃথিবীতে নানা ইস্যুতে বৈঠক হয়, আহ্বান জানানো হয় কিন্তু এর বাস্তবায়ন হয় কতটুকু? বিশ্বনেতাদের অনেক তৎপরতাকে এখন প্রহসন ও প্রতারণামূলক বলেও মনে হয়।
বর্তমান বিশ্ব-পরিস্থিতির নানা বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ হচ্ছে, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন মন্তব্যও। উত্তর কোরিয়াও এর মধ্যেই আছে। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে বেপরোয়া মনোভাব প্রদর্শন করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের চিন্তার কারণ হয়ে আছেন। তবে বিশ্লেষকরা প্রসঙ্গত পুরানো একটি প্রবাদের কথা এখন স্মরণ করছেন। আলোর নিচেই নাকি থাকে অন্ধকার। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে প্রবাদটি খেটে যেতে পারে বলে মনে করেন তারা। কারণ উত্তর কোরিয়ার জনগণই দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় মাথাব্যথার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নিরসনে সবাই দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টির কথা বলছে। কিন্তু দেশটির অভ্যন্তরে কি ঘটছে, জনগণ কি ভাবছে, সে দিকে কারও তেমন মনোযোগ নেই।
চলতি বছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার ৪৪ লাখ মানুষ ক্ষুধাপীড়িত। এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। এছাড়া দুই দশকের কম সময় আগে উত্তর কোরিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী জিহাইয়ুন পার্ক বলেন, সহ্যসীমার শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে জনগণ। প্রিয় নেতা, মহান দেশের প্রতি ৬০ বছর ধরে আস্থা রেখে এসেছে উত্তর কোরিয়ার জনগণ। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায়নি তারা। এভাবে বেঁচে থাকতে থাকতে তারা এখন ক্লান্ত। জিহাইয়ুনের মতে, কিম জং-উন হয়তো কর্তৃত্বপরায়ণ শক্তিগুলো থেকে, বাকি বিশ্বের হাত থেকে বেঁচে যাবেন। কিন্তু তিনি নিজের জনগণকেই ভুলে গেছেন। কিম জং-উন পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে ওঠার নেশায় মত্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি খেয়ালই করছেন না, উত্তর কোরিয়ার জনগণ আর আগের মত বাধ্যগত নেই। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে দেশটির জনগণের। হাজারো মানুষ উন্নত জীবনের আশায় উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়েছে। এই মানুষেরা ফাইটার্স ফর নর্থকোরিয়ার মত সংগঠন গড়ে তুলেছে। এই সংগঠন ইউএসবি ড্রাইভ, ডিভিডি ও গণতন্ত্রপন্থী লেখা স্লোগান বেলুনে বেঁধে উত্তর কোরিয়ায় ফেলছে। উত্তর কোরিয়ার জনগণের সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মন্তব্য করেন জিহাইয়ুন পার্ক। পার্কের মন্তব্য আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যুদ্ধংদেহী স্বৈরশাসকরা যখন জনগণকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে, তখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর বিচ্ছিন্ন স্বৈরশাসকরা সবসময় পরাজিত হয়েছে জনগণের কাছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ