ঢাকা, সোমবার 13 November 2017, ২৯ কার্তিক ১৪২8, ২৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মুসলিম বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের কাঠগড়ায় ছেলের হত্যাকারীকে জড়িয়ে ধরে সালাহউদ্দিনের বাবা

১২ নবেম্বর, জিউ নিউজ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতে মুসলিম বাবার উদারতায় পুরো আদালত অবাক হয়ে যায়। মুসলিম বাবা আব্দুল মুমিন। তার নিহত ছেলে সালাহউদ্দিন। আদালতের কাঠগড়ায় ছেলের হত্যাকারীকে জড়িয়ে ধরে সালাহউদ্দিনের বাবা। হত্যাকরীকে বলেন, তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। বয়স কম তাই ভুল করে বড় অপরাধ করে ফেলেছ। সামনে তোমার গোটা জীবন পড়ে আছে। ইসলাম আমাদের ক্ষমার শিক্ষা দিয়েছে। তুমিও ইসলামকে জানো।

পিৎজার দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল খুন করা হয় তার ছেলেকে। কিন্তু ঘাতককে আটক করে বিচারকের কাঠগড়ায় আনার পর এক অনন্য নজির স্থাপিত হল। যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন জিতমাউদকে (২২) ছুরি মেরে খুন করেছিল কৃষ্ণাঙ্গ যুবক আলেকজান্ডার রেলফোর্ড (২৪)।

মুসলিম বাবার উদারতা দেখে নারী বিচারক চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। রেলফোর্ডকে ক্ষমা করে সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে আসামির স্ট্যান্ডে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেই থেমে থাকলেন না মুসলিম বাবা। অপরাধীকে বুকে জড়িয়ে ধরে রেলফোর্ডের কানে কানে সালাউদ্দিনের বাবা বললেন, কোনো চিন্তা করো না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়।

বিচারকসহ সবাই জানেন, মৃত্যুদ-ই দেয়া হবে, নয়তো যাবজ্জীবন। থমথম করছে গোটা আদালত কক্ষ। সেই সময় সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে করজোড়ে আবদুল মুনিম সোমবাত জিতমউদ বলে উঠলেন- ‘অল্প বয়সের ছেলে। ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ধর্ম ক্ষমার কথাই বলে।’

জিতমউদের বক্তব্য শুনে কিছুক্ষণ পর আদালতে ফিরে এসে বিচারক বানেল ৭ বছরের কারাদ- দিলেন রেলফোর্ডের। তার পর আসামির স্ট্যান্ডে গিয়ে রেলফোর্ডকে আরও একবার আবেগে জড়িয়ে ধরলেন জিতমউদ। তার পাশে গিয়ে বললেন, ‘ভাবছ কেন? সময়টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। এর পর তোমার জীবনটা আবার নতুন করে শুরু হবে। একেবারে অন্যভাবে এবার গড়ে তোল জীবনটাকে। শুধু ভালো ভালো কাজ করবে এবার। আর সবাইকে ভালো কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে। সঠিক পথে চলবে সব সময়। ইসলামকে স্মরণ করে চলার মাধ্যমে সেটি তুমি জেল থেকেই শুরু করে দাও না। এই করতে করতে ৭ বছর কেটে তুমি ৩১ বছরে পৌঁছাবে। যখন তুমি জেল থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন জীবনটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবে।’

বিচারক রেলফোর্ডকে ৭ বছর কারাদ- দেওয়ার পর তাকে জড়িয়ে ধরে জিতমউদ বলেছেন, আমি তোমাকে দোষ দিই না। দোষ সেই শয়তানটার। যে তোমাকে ওই জঘন্য অপরাধ করতে প্ররোচনা দিয়েছিল। সেই শয়তানটা আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। আমরা কেউ কেউ তাকে বাড়াবাড়ি করতে দিই, কেউ দিই না।রায় দেওয়ার আগে বিচারক রেলফোর্ডের মা গেল কুট বার্ডের সাক্ষ্যও শুনেছেন।

রেলফোর্ডের মা বলেছেন, জিতমউদ যে তার ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি তা ভাবতেও পারেননি। তিনি অভিভূত। ছেলে রেলফোর্ড যে ছোটবেলা থেকেই মাদকাসক্ত, আদালতে সে কথাও কবুল করেন তার মা কুট বার্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ