ঢাকা, মঙ্গলবার 14 November 2017, ৩০ কার্তিক ১৪২8, ২৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শুধু বহিষ্কারে ফল হবে না

ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও সেসব দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদারকে ১১ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। ১২ নভেম্বর পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীদের একজন আরিফ হোসেনের (২২) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। এদিকে আপত্তিকর ভিডিও দৃশ্য ও ছবি এখনো ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরিফ শরিয়তপুরের নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে এক নারী এখন এলাকাছাড়া, দু’জন কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, আরেক নারীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। স্নাতক শ্রেণির ছাত্র, তিনি আবার ছাত্রনেতা- তার এসব কর্মকা-কে সমাজ কীভাবে মূল্যায়ন করবে? একজন ছাত্র ও নেতার কাজ সমাজের জন্য কেমন হওয়া উচিত ছিল? আর তিনি যা করলেন, তা কেমন করে করলেন? তিনি তো জনমানবহীন কোনো জঙ্গলে গিয়ে ওইসব অপকর্ম করেননি। অপকর্মগুলো তিনি সমাজেই করেছেন এবং সাহসের সাথেই করেছেন।
আমাদের সমাজ কি তাহলে পচে গেছে? সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো কি অকার্যকর হয়ে পড়েছে? আর ক্ষমতাসীন দলের কোনো পর্যায়ের নেতা অপরাধী তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে কি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অক্ষম হয়ে পড়ে? সমাজকে মানুষের বসবাসযোগ্য রাখতে হলে ওই প্রশ্নগুলোর জবাব জানা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী নারীদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আরিফকে আটক না করায় তারা আতঙ্কে আছেন। আর আরিফের গ্রামের লোকজন বলছেন, এমন ঘটনায় তারাও অস্বস্তি ও লজ্জায় পড়েছেন। আরিফকে আটক না করলে এরকম আরও অঘটন ঘটে কিনা, তা নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়। এ প্রসঙ্গে ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মো. মেহেদি হাসান বলেন, আরিফকে গ্রেফতারে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছেন। আমরা জানি, পুলিশ আন্তরিক হলে অনেক কিছুই করতে পারেন। আলোচ্য ক্ষেত্রে তারা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে সঠিক কাজটি করবেন বলে আমরা আশা করি। এদিকে ঘটনা জানাজানির পর আরিফকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।  ১১ নভেম্বর তাকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের এমন ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও আমরা দেখেছি, যখন এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটে, নেতার জন্য সংগঠন ইমেজ-সংকটে পড়ে যায়, তখন বহিষ্কারের বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু এতে কি সংগঠনের নেতাদের অপকর্মের ধারা বন্ধ হয়েছে? হয়নি, বরং অপকর্মের ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্ন জাগে, আরিফ কি হঠাৎ করেই ধর্ষণ ও ওইসব দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে? আসলে দীর্ঘদিনের প্রশ্রয় ও ক্ষমতার দাপটের কারণেই সে ওইসব কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। যারা এখন বহিষ্কার করছেন তারা কি আরিফের স্বভাব-চরিত্র তথা আমলনামা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না ? না জেনে কি কাউকে একটি এলাকার সাধারণ সম্পাদক করা যায় ? আসলেই সংগঠনকে এবং নেতাদের দূষণ মুক্ত করতে চাইলে শীর্ষনেতাদেরও আত্মসমালোচনার সাথে সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ