ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন আজ মঙ্গলবার বলেন, “পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”

উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে গত জুলাই মাসে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, সংসদ ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নানা পর্যবেক্ষণ দেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। রায়ের ওই পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সমালোচনায় সরব হন সরকার দলীয় মন্ত্রী-নেতারা। এমনকি এসব পর্যবেক্ষণ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি দাবি জানানো হয়। অবশেষে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে এক মাসের বেশি ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বিদেশে যান বিচারপতি সিনহা। ছুটিতে থাকা অবস্থায় বিদেশে বসে তিনি পদত্যাগ করেন। 

সেই ছুটি শেষে গত শনিবার তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানায় বঙ্গভবন।

তার অনুপস্থিতিতে গত এক মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যৈষ্ঠ বিচারক বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এস কে সিনহা। বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে ৮১ দিন আগেই তার কার্যকাল শেষ হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ জন বিচারক প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাই প্রথম পদত্যাগ করলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে আর কোনো প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে প্রকাশ্যে এত আলোচনা-সমালোচনাও হয়নি।

বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই সব অভিযোগের ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ তিনি না দিতে পারায় সহকর্মীরা তার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ।

ডি.স/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ