ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার পর 'উদ্বাস্তুদের' নেয়ার অঙ্গীকার সুচির

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি।

গতকাল (সোমবার) ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৯ম আসিয়ান-ইউএন বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো দুতার্তের মুখপাত্র হেরি রোকে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সু চি অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের তিন সপ্তাহের মধ্যে রাখাইনের বাস্তচ্যুত লোকজনকে ফেরত নেয়ার কাজ শুরু করবে মিয়ানমার সরকার।

গত ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে মিয়ানমার। তবে ঠিক কবে থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে তা স্পষ্ট করেননি সু চি। এ অবস্থায় ৩১তম আসিয়ান সম্মেলনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট প্রাধান্য পাবে এমন আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় প্লেনারি সেশনেই রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরেন আসিয়ান সদস্যভুক্ত দেশের একাধিক সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। সংকট সমাধানে মিয়ানমারের তরফ থেকে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিংবা আদৌ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সেসব জানতে চাওয়া হয় সু চির কাছে। প্রশ্নের মুখে সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সু চি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন এবং মানবিক সহায়তার বিষয়টিকে স্বাগত জানায় তার সরকার। তবে গোটা আলোচনায় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি তিনি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

 

রাতারাতি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না: শাহরিয়ার

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারকে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করবে বাংলাদেশ সরকার। তবে রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান হবে না বলেও জানান তিনি।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সম্মেলনকক্ষে সাউথ ইস্ট এশিয়ান কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো সমর্থন পেয়েছে। এই ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের সুশীল সমাজকে বুঝেশুনে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো একটি অযাচিত মন্তব্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে। মিয়ানমার সরকারকে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে যাতে তারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের দায়িত্বে নতুন জেনারেল

অন্যদিকে, মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মাউং সোয়েকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে রাখাইনে অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ে টিন্ট নাইংকে। সোমবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক মেজর জেনারেল আই লইন বলেন, কেন তাকে বদলি করা হয়েছে আমি জানি না। তাকে নতুন কোনও দায়িত্বে দেওয়া হয়নি। তাকে রিজার্ভে রাখা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরের আগ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। আগামী সপ্তাহে টিলারসন মিয়ানমার সফর করবেন।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। এরপর দমন, নির্যাতনের মুখে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা।-পার্স টুডে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ