ঢাকা, বুধবার 15 November 2017, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এপ্রিল পর্যন্ত রেমিটেন্সের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫০ মিলিয়ন ডলার

সংসদ রিপোর্টার : চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশী। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-৩ আসনের এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান।
ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিগত বছরগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, ২০১৫-২০১৬ এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৮ এবং ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ গত অর্থবছরের একই তুলনায় ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ লাখ ১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা দাড়িয়েছে। এর ফলে উৎপাদনমুখী উদ্যাগসমূহ বাস্তবায়ন  এবং কাঙ্খিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার জন্য নূন্যতম ১০ টাকা জমায় ব্যাংক হিসেবের সংখ্যা ১৭০ লাখের বেশী। এ একাউন্টে সঞ্চয়ের পরিমাণ ১৩ শ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে কার্যরত বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ৪৯ টি। এবং চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সরকোরি বেসরকারি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মধ্যে ২ হাজার ৭৬০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে।
ঢাকা-১ আসনের এমপি সালমা বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের অপচয় ও অনিয়ম মোকবেলা করে আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষে ইতমধ্যে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এ অধিকতর সংশোধনী আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ওপারেশনাল এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করা জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত তদারকী করছে, বার্ষিক পারফরমেন্স চুক্তি করা হয়েছে, ঝুকি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইনস যথাযথভাবে পরিপালন করা হচ্ছে, ব্যাংকগুলোর ইন্টারকন্ট্রোল এ- কমপ্লায়েন্স বিভাগ শক্তিশালী করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, এছাড়া ব্যাংশগুলোকে নিয়মিত পরিদর্শন ও পরীবিক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
আবদুল লতিফ (চট্টগ্রাম-১১) এর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ভোক্তাবান্ধন ও রাজস্ব বান্ধব ডিজিটাল এনবি আর গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কতৃক বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক ও কর বান্ধব পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে।  আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ঝঞ্জাট উপায়ে অন লাইনের করার জন্য ইতিমধ্যে দেশের সকল কাস্টম হাউস এবং গুরুত্বপূর্ণ ল্যা- কাস্টমস স্টেশনে ‘এস্যকুডা (এএসওয়াইসিইউডিএ) ওয়াল্ড সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে। এরফলে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সফটওয়ার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল এনবিআর গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ড প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ই পেমেন্ট সিস্টেম, কিউ ক্যাশ ডেবিট কার্ড, ই-টিন রেজিট্রেশন সিস্টেম চালু ও হিসেব সরলীকরণ করার লক্ষ্যে ই ক্যালকুলেটর ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া রাজস্ব আহরণের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য বিসিএস (কর) একাডেমির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একাডেমি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার লক্ষে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ঢাকার অদুরে ৫০-৬০ একর জমি নিয়ে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের এক একাডেমি তৈরি করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ