ঢাকা, বুধবার 15 November 2017, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুসলিমের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আসামকে মিয়ানমার বানানোর ষড়যন্ত্রে বিজেপি

হিরন্ময় ভট্টচার্য, গুয়াহাটি : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসামের ৫০ লক্ষ মুসলমানকে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। ভোটাধিকার থেকে বঞ্ছিত করে তাদের ভারতের বাইরে ঠেলে পাঠানো হবে। আসামকে আসলে মিয়ানমারে পরিণত করার কৌশল ফেঁদেছে বিজেপি সরকার। তাই ২০১৪ সাল অবধি আগত হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, কিন্তু মুসলমানদের বাংলাদেশি বানিয়ে বাইরে পাঠানো হবে। কিন্তু ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হলে ৫০ লক্ষ মুসলমানও বসে থাকবে না। এর পরিণামে হত্যা-হিংসা, মারামারি, খুনোখুনি হবে, রক্ত ঝড়বে আসামে। আমাদের সময়কম
নতুন দিল্লীতে সোমবার ভারতের ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘু সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। অ্যাকশন কমিটি ফর আসাম নামের এক সংগঠনের আয়োজনে এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আসামের বুদ্ধিজীবি, চিন্তাবিদ ড. হীরেন গোঁহাই, অধ্যাপক অপূর্ব বরুয়া, আব্দুল মান্নান, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক হায়দর হুসেন, মনজিৎ মহন্ত প্রমুখ।
সম্মেলনে আরশাদ মাদানি বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। যারা ভারতীয় নয়, তাদের আমরা ভারতীয় বানাতে চাই না। যারা ভারতীয় নয়, তাদের বাইরে পাঠিয়ে দাও। কিন্তু যাদের পূর্বপুরুষ ৪০০ বছর ধরে আসামে বসবাস করছেন, তাদের বাংলাদেশি বানিয়ে বাইরে ঠেলে পাঠাবেন, এর অনুমতি দেব না আমরা। কিন্তু আসামের বিজেপি সরকার সেটাই করছে।
আদালতে পঞ্চায়েত-নথির বৈধতা খারিজের আড়ালেও ষড়যন্ত্র রয়েছে উল্লেখ করে মাদানি বলেন, ৪০০ বছর ধরে আসামে বসবাসকারী মুসলমানদের বাংলাদেশি বানাতেই পঞ্চায়েত-নথি মানা হচ্ছে না। এতে আপত্তি রইলে এতদিন অবধি পঞ্চায়েত নথি যারা জমা দিয়েছেন, তাদেও মেনে নেওয়া উচিত ছিল সরকারের। এখন থেকে আর গ্রহণ করব না বললে আমরাও আপত্তি করতাম না। কিন্তু এখন ৫০ বছর বয়সী সব মহিলাকে বলবেন ভারতীয় নয়, তাহলে তো বিশাল ঘটনা ঘটে যাবে। তারা কী মরে যাবে? তাদের গলা টিপে দিন। তাদের বাব-দাদা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু এখন তাদের ছেলে-মেয়েদেরই বলা হচ্ছে, তারা ভারতীয় নয়। এখন তাদের বাইরে ফেলে দেওয়া হবে। আসামে বিজেপি সরকার সেই কৌশল নিয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকেরা যেভাবে রাষ্ট্রচালিত হিংসার শিকার হচ্ছেন। আসামের মুসলমানদের ক্ষেত্রেও একই নিয়তি অপেক্ষা করে রয়েছে বলে মনে করেন মাদানি। তার মন্তব্য ‘২০১৪ সাল অবধি যেসব হিন্দু আসামে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। অথচ চারশো বছর ধরে বসবাসকারী মুসলমানদের বাংলাদেশি বানানো হবে। এখন বলা হচ্ছে, ভোটাধিকার থেকে বঞ্ছিত কর। ভোটাধিকার যখন কেড়ে নেওয়া হবে, তখন দশ বছর পর বলা হবে তোমরা ভারতীয় নও। মায়ানমারে যা হয়েছে, তখন আটকাবে কে? আসামকে আসলে মিয়ানমার বানানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। সেই অভিপ্রায় নিয়ে চলছে বিজেপি সরকার।
কিন্তু নাগরিকপঞ্জি থেকে ৫০ লক্ষ লোককে বাদ দেওয়া হলে এর ভয়ঙ্কর পরিনামের হুমকিও দিয়েছেন আরশাদ মাদানি। ভিটেহারা হলে মুসলমানরাও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন মনে করিয়ে মাদানি বলেন, ৫০ লক্ষ ভারতীয় লোককে যখন ভিটেছাড়া করা হবে, তখন তারা কি বসে থাকবে? আগুন লাগাবে, মরবে, মারবে, খুন হবে অনেকে। রক্ত ঝড়বে।
একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক ড. হীরেন গোঁহাই। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নাগরিকপঞ্জিকে ঘিরে সরকারের নানা মন্তব্য, অবস্থানে এক উত্তপাতের সৃষ্ট হয়েছে আসামে। ভয় করেছি আমরা সেটা হতে পারে। তাই আমরা এখানকার সচেতন লোকদের কাছে এসেছি। এখানে যুক্তিবাদী দেশপ্রেমী লোক রয়েছেন তাদের বলেছি, এই বিষয়টি আসলে ভারতে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ