ঢাকা, বুধবার 15 November 2017, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সময় শেষ হয়ে আসছে

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সময় শেষ হয়ে আসছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ আর আওয়ামী লীগকে দেখতে চায় না। তারা পরবির্তন চায়। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও দফতর সম্পাদক এসকে সাদীর পরিচালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সহসভাপতি এম এ তাহের, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, যুগ্ম-সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম, জামাল উদ্দিন খান মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ অশনিসঙ্কেত মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই পদত্যাগপত্র দেন নাই, জোর করে তাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। উচ্চতর আদালতে যে নজিরবিহীন, খারাপ, হীন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো তা বাংলাদেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না, করে না। এসকে সিনহাকে নজিরবিহীনভাবে ন্যাক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে আজকে সরকারি দল বলেছে যে, পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই রায়ে বর্তমান সংসদকে এসকে সিনহা ডিসফাংশনাল বলেছেন। এতে আওয়ামী লীগ গোস্সা হয়েছে। এই সংসদ ডিসফাংশনাল। কারণ এখানে ১৫৪ টি আসনে কোনো প্রার্থী ছিলো, জনগণ সেখানে কাউকে ভোট দেয়নি। সংবিধানে লেখা আছে জাতীয় সংসদ সদস্য তিনি যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাহলে ১৫৪ জন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম যে, প্রধান বিচারপতি ছুটি থেকে ফিরে একটি রিট করা আছে যে ১৫৪ জন অবৈধ, সেই রিটের শুনানি করবেন। হয়ত সিদ্ধান্তে যেতে পারে ১৫৪ আসন অবৈধ। তাহলে সরকার অবৈধ হয়ে যায়। এজন্যই সরকার প্রধান বিচারপতির ওপরে কী ন্যাক্কারজনকভাবে, নজিরবিহীনভাবে প্রথমে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করিয়ে নিলো, পরে তাকে গায়ের জোরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলো।
তিনি বলেন, শুধু তাই না, সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সরকারের লোকেরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে, তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে চলে আসছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য, সেখানে গিয়ে জোর করে তার থেকে পদত্যাগপত্র নেয়া হয়েছে। এটা অশনিসঙ্কেত। মানুষের শেষ আশা-ভরসারস্থল বিচারালয়। এই প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন এই সরকার নিম্নস্তরের সকল আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে, আর উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। আমরা ফলাফল দেখলাম। এভাবে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভকে ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একটা জঙ্গল আইন করতে চায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যদি জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না হয়, এই আওয়ামী লীগ যদি আবার গায়ের জোরে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়। আমরা মনে করি জনগণ এবার তা হতে দেবে না। জনগণ রাস্তায় নামবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই জনগণকে নেতৃত্ব দেবেন। রাস্তায় এসে জনগণ তাদের প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ করার জন্য, গুম-খুন থেকে রক্ষা পাবার জন্য জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে। খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা উপযুক্ত সময়ে দেবেন। এসময় কৃষকদলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
৭ নবেম্বর বিপ্লবে জাসদের সম্পৃক্ততার দাবি ‘ইতিহাস বিকৃতি’ বলে মন্তব্য করেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ দাবি করে যে, ওই সময়ে ক্যান্টমেন্টের ভেতরে নাকী জাসদের কেউ কেউ গিয়ে এই বিপ্লব (৭ নবেম্বর) সাধন করেছে। ঘটনা ঘটলো ক্যান্টমেন্টের ভেতরে। যেখানে সিভিলিয়ানরা যেতে পারে না, যাওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে বিপ্লবটা সাধন করলো কীভাবে ?  যারা এখন ইতিহাস বিকৃত করতে চায় অর্থাৎ তাহের (কর্ণেল তাহের) নাকী এই ৭ নবেম্বরের নায়ক ছিলো অথবা অনুঘটক ছিলো। কীভাবে অনুঘটক থাকতে পারে? ওই সময় সে (তাহের) সেনাবাহিনীতে ছিলেন না।
ওই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,  বিপ্লব সফল হওয়ার পরে এই আনন্দ করার জন্য সিপাহীরা ট্যাঙ্ক নিয়ে ঢাকার রাস্তায় বের হয়েছিলো। অনেক উৎসুখ জনতা ট্যাঙ্কের উপরে উঠে নাচানাচি করেছে আমি ব্যক্তিগভাবে দেখেছি। সেই জায়গায় এসে আজকের মন্ত্রী ইনু সাহেব (জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু) অতি উৎসাহী একজন ছাত্র হিসেবে ট্যাঙ্কের উপরে উঠে লাফালাফি করেছেন। আমি নিজের চোখে জিরো পয়েন্টে তাকে দেখেছি। এটা দিয়ে বলেছে যে, জাসদ নাকী এই বিপ্লবের অনুঘটক এবং এই বিপ্লবের অংশীদার। কোথায় কিভাবে অংশীদার হতে পারে? ঘটনা ঘটলো সেনা বাহিনীর ক্যান্টমেন্টের ভেতরে। আর পরের দিন সকালে যখন তারা (সিপাহীরা) আনন্দ করতে বেরুলো তখন ট্যাঙ্কের উপরে উঠে লাফালাফি করেছে তারা (জনতা)। এটাই ইতিহাস। একে বিকৃত করা সম্ভব হবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ১৯৭৫ সালের নবেম্বরের ৬ তারিখ গভীর রাত থেকে সিপাহীরা এই বিপ্লব করে। কী বিপ্লব করলো- মানি না খালেদা মোশাররফকে, আমাদের সেনা প্রধান হচ্ছেন জিয়াউর রহমান। তখন বন্দি জিয়াউর রহমানকে সিপাহীরা কাঁধে করে সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে নিয়ে গেলো। সিনিয়র অফিসার ও জিওসিরা এখানে-ওখানে যারা ছিলেন তারা হেডকোয়ার্টারে এসে যখন তাদের পরবর্তি কর্মকা- ঠিক করছিলেন তখন বাইরে থেকে কর্ণেল তাহের ক্যান্টমেন্টের ভিতরে গিয়ে হেডকোয়ার্টারে যান। হয়ত একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কর্ণেল তাহের হেডকোয়ার্টরে যান। গিয়ে দেখলেন যে, অন্যান্য সকল সিনিয়র কর্মকর্তারা সেখানে বসা। তখন তিনি যে একটা দাবি করেছিলেন। জিয়াউর রহমানকে বলেছিলেন আপনি এখন চলেন রেডিও স্টেশনে, আপনি একটা বক্তৃতা দেবেন। কী আপনার প্রস্তাব? আপনি যেয়ে বলবেন এই সেনাবাহিনীতে কোনো অফিসার থাকবে না, এটা পিপলস আর্মি হিসেবে রূপান্তর করা হবে ইত্যাদি।  সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা প্রত্যেকে এক বাক্যে তাহেরের প্রস্তাব অস্বীকার করছেন, এটা হতে পারে না। জিয়াউর রহমানও তার (তাহের) কথা শুনেননি। এতোটুকুই তার (তাহের) এখানে ইনভøমেন্ট। ঘটনার আগে-পিছে তিনি ক্যান্টেমেন্টের ভেতরে ছিলেন না। ৭ নবেম্বরের মাধ্যমে ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করেছে বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ