ঢাকা, বুধবার 15 November 2017, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবারো অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: মন্ত্রী-এমপিদের বেপরোয়া দাম্ভিকতা আরো তীব্র মাত্রা ধারণ করেছে অভিযোগ করে  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বি। বিএনপির প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও ব্যাপক জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার এখন আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী-এমপিদের বেপরোয়া দাম্ভিকতা আরো তীব্র মাত্রা ধারণ করেছে। ত্রাস সৃষ্টি করে আবারো অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে সরকার। গত রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসার পথে নেতাকর্মীদেরকে ব্যাপক বাধাদান ও অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের এবং অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা মহানগর সূত্রাপুর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, রুপনগর থানা বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, রিপন, জালাল হাওলাদার, মানিক খান, ফারুক আহমেদ এবং মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি নেতা মোঃ মাসুদ সর্দার, মোঃ মিলন খন্দকার, মোঃ মিলন ঢালী, মোঃ বিজয় খান, মোঃ ইব্রাহিম, মোঃ রাশেদ, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন পালোয়ানসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মী, মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিফাতসহ ৪ জন, ঘাট শ্রমিক দল নেতা মোঃ আমির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বানোয়াট মামলায় আসামি করা হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহসভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ, যুগ্ম সম্পাদক আলী রেজাউর রহমান রিপন, কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহসভাপতি শরীফ হোসেন এবং ওয়ারী থানা যুবদল সভাপতি ইবরাহিম মোল্লা, গাজীপুর জেলাধীন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ ৬০ জন নেতাকর্মীকে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি সামসুল হককে গ্রেফতার করতে না পেরে তার বাসায় পুলিশ ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে।
এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ও বেগম জিয়ার যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা এবং নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারান্তরীণ ও দেশে ত্রাস সৃষ্টি করে আবারো অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগম দেখে আতঙ্কিত হয়ে সভাস্থলে আসতে নেতাকর্মীদেরকে প্রচন্ড বাধাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বানোয়াট ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু এধরনের অপকর্ম ও বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করে বিএনপির প্রতি মানুষের সমর্থন ও জনস্রোতকে ঠেকানো যাবে না। জনগণের মিলিত শক্তি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সকল চক্রান্ত, অপকৌশল ও ভয়াবহ দু:শাসনকে রুখে দিবে। তিনি অবিলম্বে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীসহ কাল্পনিক ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ