ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 November 2017, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [পাঁচ]
১৬ অক্টোবর নওগাঁর মহাদেবপুরে সুজাইল মোড় এলাকায় যুবক জুয়েল রহমান হত্যা মামলায় যুবলীগ কর্মী মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের চাদগাঁও মোহরা এলাকায় দলীয় কোন্দলে যুবলীগ কর্মী কাকন মল্লিক খুন। গত ২২ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাকন মল্লিক প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়। ২৮ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল বাজারে চাঁদা না দেয়ায় জোনাইল ডিগ্ির কলেজের অধ্যক্ষ আবুল আসর মোহাম্মদ শফিউদ্দিনকে মারধর করে যুবলীগ নেতা-কর্মীরা। ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বরঙ্গাইল মধুমতি ফিলিং স্টেশনে যুবলীগ হামলা চালিয়ে পুলক, আব্দুল আজিজ, আলমগীর, সাইফুল ও অজ্ঞাত সিএনজি চালককে আহত করে। যুবলীগ চেয়ারম্যানের কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে গাড়ি বহর থেকে বের হয়ে এই হামলা চালান হয়। ৩১ অক্টোবর সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রূপালীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় দেয়ার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীনকে আটক করে পুলিশ। গত ৮ আগষ্ট রূপালী আত্মহত্যা করে। রাজনৈতিক সংশ্লষ্টতা নিশ্চিত হতে বিলম্বে হওয়ায় ঘটনাটি এ মাসের কলামে যুক্ত হলো।
শ্রমিক লীগ : ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিক লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন। মটর শ্রমিক লীগ নেতা জাহিদুর রহমান গ্রুপ ও আক্তারুজ্জামান মহ্বŸত গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পুলিশের লাঠি চার্জে জাহিদ, দিপু, মিয়ারাজ হোসেন, কবীর হোসেন ও বশির আহমেদসহ আহত ১০ জন। ২৮ অক্টোবর মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শ্রমিক লীগ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহমেদ কনককে আটক করে পুলিশ।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ : ১৯ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক গ্রুপ ও অপর নেতা ছয়ফুর রহমান গ্রুপের মধ্যে এই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রজন্ম লীগ : ২৬ অক্টোবর পটুয়াখালী শহরের লোহাড়িয়া খেয়াঘাটে ছিনতাই হওয়া ৯৬ হাজার ৫০০ টাকাসহ প্রজন্ম লীগ বাউফল উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব তরফদারকে কাঠপট্টি থেকে আটক করে পুলিশ। ঐ দিন দুপুরে এই টাকা ছিনতাই হয়।
মটরচালক লীগ : ৬ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার জিরানীতে বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালের ডাঃ শফিকুল ইসলামকে আওয়ামী মটরচালক লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন মিয়া মারধর করে। নূর হোসেনের শিশু মেয়েকে চিকিৎসা করাতে আসে কিন্তু রোগীটি চর্ম রোগে আক্রান্ত বলে ঐ বিভাগে পাঠালে নূর হোসেন আধা ঘন্টা পরে এই ঘটনা ঘটায়।
বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ : ৩ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ায় নলাম এলাকায় নিজ বাড়ি সংলগ্ন অফিস থেকে ঢাকা জেলা বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ্কে ১ বোতল বিদেশী মদ ও ২১ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।
বিএনপি : ৩ অক্টোবর পাবনার চাটমোহরে পৌর বিএনপির ২নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম রঞ্জুসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। ১০ অক্টোবর বাগেরহাটে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফ্ফর রহমান আলম ও সদর উপজেলা যুগ্ম-সম্পাদক ইদ্রিস আলী নিকারীকে কাড়াপাড়া গ্রাম থেকে পুলিশ আটক করে। ১১ অক্টোবর নোয়াখালীর মাইজদীতে বিএনপির মিছিল থেকে ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশ এক মামলায় কালনি হিরনাল এলাকার বিএনপির ইসমত আলী ফকির নামে একজনকে আটক করে। ১২ অক্টোবর দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক নশারতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরে আলমকে আটক করে পুলিশ। ১৮ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশ বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা যাতে বিমান বন্দরে বেগম খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা দিতে যেতে না পারে সেজন্য এই গ্রেফতার অভিযান। ঢাকার সাভারে বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম ও ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজকে পুলিশ আটক করে। বগুড়ার গাবতলীতে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা উপলক্ষে মিছিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৩০০ নেতা-কর্মীর নামে মামলা করে পুলিশ। পরে পুলিশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিল্টনকে আটক করে।
২৫ অক্টোবর ঝিনাইদাহ বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি মশিউর রহমানকে ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে যশোরের বিশেষ জজ আদালত ১০ বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়। সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রর অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করে আদালত। রংপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ও ছাত্রদল জেলা সাবেক সহ-সম্পাদক শহীদুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠায়। ৩০ অক্টোবর ঝিনাইদাহ শৈলকুপায় বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াহাবকে দুর্নীতির দায়ে যশোরের বিশেষ জজ আদালত ৮ বছরের কারাদন্ড দেয়। ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে এই দন্ড দেয়া হয়। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পৌর বিএনপি সহ-সভাপতি জাহেদুল ইসলাম চুম্বুককে আটক করে পুলিশ।
ছাত্রদল : ৪ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিল আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। ১০ অক্টোবর ঢাকায় শহীদ জিহাদ দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল দৈনিক বাংলা ও পল্টন এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হিরা, স্কুল বিষয়ক সস্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ-সভাপতি সাজিদ হাসান বাবু, ঢাবির ফজলুল হক শাখা আহ্বায়ক রাকিব, তেজগাঁও কলেজ প্রচার সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া ও তিতুমীর কলেজ যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ১১ অক্টোবর ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুককে পুলিশ আটক করে। ১৪ অক্টোবর নড়াইলের কালিয়া পৌর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলামসহ ৩৯ জনের নামে নাশকতা সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। ছোট কালিয়া মোড় এলাকা থেকে ৫টি ককটেল, গাছের গুড়ি ও ইটের টুকরা উদ্ধার করে। ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর সদরে পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহার করায় ৩ ছাত্রদল নেতাকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ তাবরীজ, যুগ্ম-সম্পাদক আদনান হোসেন অনু এবং ছাত্রদল নেতা প্লাবন। ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ডিগ্রী কলেজে সাবেক ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক অভিকে গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ মামলায় আটক করে পুলিশ।
যুবদল : ১২ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে রতনপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মামুন মুন্সীকে আটক করে পুলিশ। খুলনা মহানগরীর আমতলা এলাকায় আবুল কাশেম স্মৃতি সংসদের সামনে যুবদল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ যুবদল মহানগর শাখা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর গ্রুপ। ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিঘুলিয়াটেক এলাকা থেকে যুবদল কর্মী হযরত আলীকে আটক করে পুলিশ। ১৯ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের মিছিল থেকে ১৫ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতরা হলো- যুবদল মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, কাফরুল থানা যুবদল সভাপতি আহসান উল্লাহ হাসান, মুগদা থানা যুবদল যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী জুয়েল, নিউ মার্কেট থানা যুবদল সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, গুলীস্থান ইউনিট যুবদল সভাপতি জাফর রাজা মনা, ছাত্রদল নেতা জহির উদ্দিন তুহিন, আরিফ হোসেন, তানজিল হাসান ও আকরাম হোসেনসহ ১০ জন।
স্বেচ্ছাসেবক দল : ১০ অক্টোবর ঢাকার কাকরাইলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল থেকে ৭ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতরা হলো- ৫৭নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুয়েল, লালবাগ থানা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন, প্রচার সম্পাদক সাইদুল, শাহজানপুর থানা সদস্য-সচিব মোস্তাক, পল্টন থানা নেতা দুলাল ও উজ্জলসহ ৭ জন। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ কর্মী শাহজান ও সাখাওয়াতকে আটক করে পুলিশ।
জামায়াত : ৩ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর শাহীনুর আলমকে আটক সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া নিজ বাড়ি থেকে করে পুলিশ। ৪ অক্টোবর ফেনীর সোনাগাজী পুলিশ পৌর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নানকে আটক করে। ৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জোরারগঞ্জ থানার মেহেদীনগর এলাকা থেকে ১৪ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- হিঙ্গুলী ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আবু তাহের, জামায়াত কর্মী হারুন-অর-রশীদ, নূর নবী, রবিউল হোসেন, শাহ আলম, জয়নাল আবেদীন, মাসুক, মোশররফ হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আবু তাহের, দেলোয়ার হোসেন, নোমান, মিজানুর রহমান ও শিবির নেতা নজরুল ইসলাম। ৭ অক্টোবর নরসিংদীর মধাবদীর বিবিরকান্দি ইমন গার্ডেনে জামায়াতের একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি থেকে উপজেলা জামায়াতের আমীরসহ ২৬ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- মোজাম্মেল হক, আব্দুল আজিজ, আব্দুল হান্নান, সফিউদ্দিন, ইব্রাহিম, নজরুল ইসলাম, হানিফ মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, ইসমাইল মিয়া, জাফরুল্লাহ, খায়রুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, মোসলেম উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, কামরুজ্জামান, হেলাল উদ্দিন, হাফিজুর রহমান, কবির হোসেন, ইয়াসিন, আব্দুস সাত্তার, ওসমান গনি, সাদেকুর রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ আব্দুস সাত্তার, বেলায়েত হোসেন ও মহসীন। ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ২ জামায়াত নেতা শুভপুর ছয়ঘরিয়া ওয়ার্ড সভাপতি জিয়া উদ্দিন ও পাঠান নগর ইউনিয়ন জামায়াত আমীর জাফর উল্লাহকে আটক করে পুলিশ।
৯ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে জামায়াতের ইসলামীর আমীর মকবুল আহমেদ ও সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর জাফর সাদেক, সেক্রেটারী জেনারেলের ব্যাক্তগত সহকারী নজরুল ইসলাম, বাড়ির মালিক নওশের আলী ও বাড়ির দারোয়ানকে আটক করে পুলিশ। ঝিনাইদাহের মহেশপুরে জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন, কর্মী হেলাল উদ্দিন ও হাসান আলীসহ পুলিশ ১১ জনকে আটক করে। ১০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরী উত্তরে উদ্যোগে জামায়াতের আমীর-সেক্রেটারি জেনারেলসহ নেতৃবৃন্দকে আটকের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে পুলিশ ৬ জনকে আটক করে। ১১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, জেলা জামায়াত নেতা এ্যাডঃ মাসুদুর রহমান ও শিবির নেতা জিহাদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ফেনীর ছাগলনাইয়া পুলিশ একটি বেসরকারী হাসাপাতাল থেকে জামায়াত কর্মী আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও তার ভাই আবুল মুনসুরকে আটক করে। ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারী জালাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। ১২ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতের ডাকা হরতাল পালনকালে পুলিশ ২১১ জামায়াত-শিবির নেতা কমীকে আটক করে। ১৩ অক্টোবর ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে ৫ জামায়াত নেতা-কর্মী মোঃ ইয়াসিন, জাফর উল্লাহ, জিয়া উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও আবুল মুনসুরকে পুলিশ আটক করে। সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে জামায়াত কর্মী আমিনুর রহমান, আক্তারুল ইসলাম ও ফারুক হোসেনকে আটক করে পুলিশ। গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জে পৌর জামায়াত আমীর শেখ ফরিদকে পুলিশ আটক করে। ১৪ অক্টোবর যশোরের মনিরামপুর হাজরাকাটি বেলতলা বাজার থেকে মশ্বিমনগর ইউনিয়ন জামায়াত আমীর নজরুল ইসলাম, সদস্য আব্দুর রহমান, আব্দুল আলীম ও আনিচুর রহমানকে পুলিশ আটক করে।
১৫ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর ও গোদাগাড়ী থেকে পুলিশ ৮ জামায়াত কর্মী সাইফুল ইসলাম, রাজু, নূরুল ইসলাম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনসার আলী, রফিকুল ইসলাম, জামিল হোসেন ও গোদাগাড়ী থেকে আব্দুল আজিজ হামিমকে আটক করে। পুলিশ দাবি করে হামিমের নিকট থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ৪ রাউন্ড গুলী উদ্ধার করা হয়। ১৬ অক্টোবর রাজশাহীর রাজপাড়া থানা পুলিশ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেলকে আটক করে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াত চরহাজারী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা শাহজানকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ১৯ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াত আমীর ও উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান শাহজান আলীকে উপজেলা সমন্বয় পরিষদের বৈঠকে আসার পথে পুলিশ আটক করে। ২৩ অক্টোবর চাঁদপুর শহর থেকে পুলিশ কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, চাঁদপুর জেলা জামায়াত সেক্রেটারী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সহকারী সেক্রেটারী মাসুদুল ইসলাম, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসেন, মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফেরদাউসী সুলতানা ও সহকারী সেক্রেটারি ফারজানা আক্তারসহ ১৩ জনকে আটক করে। ৩০ অক্টোবর রাজশাহীর রাজপাড়া থানা এলাকার আলিগঞ্জ মাদরাসা থেকে ১২ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- মাহাবুবুর রহমান, আবু সা’দ, দেলোয়ার হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, তৌহিদুর রহমান, সোলায়মান, সবুজ আহমেদ, আব্দুল মমিন, এস.এম মুজাহিদ, শফিকুজ্জামান, শাহাদাৎ হোসাইন ও আব্দুল আউয়াল।
শিবির : ৬ অক্টোবর রংপুরের পীরগাছায় অন্নদা নগর বাজার থেকে ৭ শিবির কর্মীকে একটি সাংগঠনিক সভা চলা কালে পুলিশ আটক করে। আটককৃতরা হলো- আব্দুর রহমান, ইমন মিয়া, এরশাদ মিয়া, সোহেল রানা, শাকিল মিয়া, লাভলু মিয়া ও রিপন মিয়া। ২৫ অক্টোবর রাজশাহীর পুঠিয়া পুলিশ পূর্ব জেলা শিবির অফিস সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে আটক করে।
ইসলামী ছাত্রী সংস্থা : ১৮ অক্টোবর ঢাকার কদমতলীতে ধনিয়া নূরপুর এলাকা থেকে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার একটি সভা চলা কালে ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ১৯ অক্টোবর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কওনিয়া থেকে পুলিশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ৩ সদস্যা গাজী উম্মে হাফসা, তাছলিমা আক্তার ও খাদিজা আক্তারকে আটক করে।
২০ দলীয় জোট : ১৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২০ দলীয় জোটের ছয় কর্মী আটক। আটককৃতরা হলো- নোয়াপাড়া গ্রামের জামায়াত কর্মী সজিব হোসেন, ঘাসি গ্রামের সৈয়দ আহমেদ ও বাংপাই গ্রামের কাজী মোঃ শাহীন এবং শুয়ারখিল গ্রামের বিএনপি কর্মী বিল্লাল হোসেন, চকলক্ষ্মীপুরের ইকবাল হোসেন ও জয়মঙ্গলপুর গ্রামের আবুল হাসান।    
জাতীয় যুব সংহতি : ৩০ অক্টোবর লালমনিরহাট শহরে জাতীয় যুব সংহতির দু’গ্রুপে দ্বন্দ্বে কর্মী সভা পন্ড হয়ে যায়।
জেএমবি : ২ অক্টোবর ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে জেএমবির সদস্যা সাদিয়া আমিনকে আটক করে র‌্যাব। ১৫ অক্টোবর ঢাকার পূর্ব রাজাবাজার এলাকা থেকে জেএমবির সদস্য দৌলত জামান ওরফে মোয়াজ আল-বাঙ্গালী ও সোহেল হাওলাদার ওরফে বেলাল হাফসী আল-বাঙ্গালীকে আটক করে র‌্যাব-৩। ১৯ অক্টোবর ঢাকার সবুজবাগ থেকে জেএমবি সদস্য গিয়াস উদ্দিন ও লিটনকে আটক করে র‌্যাব-১১। তারা উভয়ে সরোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য।
জাসদ ছাত্রলীগ : ১ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাসদ ছাত্রলীগে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা সাধারণ সম্পাদক রমিম হোসেনকে বহিষ্কার করলে প্রতিপক্ষ জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং জাহিদুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রতিপক্ষ নূরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়।
লাল পতাকা : ২৯ অক্টোবর রাজবাড়ি সদরের ঘিমটি বাজার থেকে চরমপন্থী দল লাল পতাকার সদস্য উজ্জলকে অস্ত্রসহ এবং গোয়ালন্দ বাজার থেকে অপর সদস্য রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ