ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 November 2017, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ‘গণহত্যার’ প্রমাণ পেয়েছে ইউএস হলোকাস্ট মিউজিয়াম

১৫ নভেম্বর, গার্ডিয়ান : গত এক বছরের তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ ও তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম বলছে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার প্রভূত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রমাণকে তারা ‘মাউন্টিং এভিডেন্স’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে রোহিঙ্গাদের ওপর এ ধরনের গণহত্যা পরিকল্পিত ছিল। গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএস হলোকাস্ট। এ প্রতিবেদন তৈরির আগে ২ শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষাতকার নেওয়া হয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা, সাহায্য সংস্থার কর্মী এবং তারা বলেছেন, মিয়ানমারের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গত বছর অক্টোবর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর যে পরিকল্পিত অভিযান ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলায় রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে হত্যাযজ্ঞ, নির্বিচারে নারী ধর্ষণ ও তাদের বাড়ি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা জাতিসংঘ ‘জাতিগত শুদ্ধির পাঠ্যপুস্তক উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করলেও ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেনি যা একটি আইনি সংজ্ঞা ও এ সংজ্ঞায় বিশ্বনেতাদের গণহত্যার কনভেনশনের অধীনে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। একটি সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তুতে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংসকেই গণহত্যা বলে অভিহিত করা হয়। সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিক স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া, ভোটাধিকার হরণ, মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ করতে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, তাদের গ্রামগুলোতে ব্যাপক সংখ্যায় সেনা মোতায়েন, ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, রকেট চালিত গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের আগে পেট্রোল ব্যবহারের মত বিভিন্ন বিষয়ে প্রমাণ হয়েছে এধরনের গণহত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

হলোকাস্ট মিউজিয়ামের সাইমন-স্কেয়ো কেন্দ্র যেটি গণহত্যার মত অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করে তার প্রোগ্রাম ম্যানেজার আন্দ্রিয়া গিটলম্যান বলেন, অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর এধরনের গণহত্যা ও অত্যাচার বন্ধ করা প্রয়োজন ও এর পেছনে যারা আছে তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা গুরুত্বপূর্ণ।

 ফোরটিফাই রাইটস’এর প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, গণহত্যার সংকল্প ছিল কি না তারচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গারা আজকে অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়েছে। গণহত্যার মত অপরাধ বন্ধে এধরনের হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতা বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা দরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী নৈতিক ব্যর্থতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে।

মংগদু শহরের তুলা তলি গ্রামে মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে শত শত রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনে। তারা সেখানে একটি পাড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করছিল। হত্যার পর মিয়ানমার সেনারা তাদের লাশ পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। শিশুদের নদীতে নিক্ষেপ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ