ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 November 2017, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১৯ নবেম্বর থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষার সমাপনী পরীক্ষা (বিএসসি) উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১৯ নবেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়াদের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। এবার ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী এবং দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন ইবতেদায়ী পরীক্ষা দেবে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবার কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। দেশের সাত হাজার ২৬৭টি এবং বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে এ সমাপনী পরীক্ষা চলবে ২৬ নবেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষায় গত বছর মোট ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন অংশ নিয়েছিল। সে হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ৩৪ হাজার ২১৩ জন। ২০১৫ সালে ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন পঞ্চমের সমাপনীতে বসেছিল।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, আগে যখন শতভাগ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির পেত না, তখন ভুয়া তালিকা তৈরি করে সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ সব শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করত। এখন আমরা শহরে, বন্দরে, নগরে, মহানগরে শতভাগ বৃত্তি দিচ্ছি। কোনো জায়গা উপবৃত্তির বাইরে নেই। কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখন যে কাজগুলো করা হচ্ছে, তার ফলে যেসজ জায়গায় ল্যাপসগুলো ছিল, সেটা ক্লিয়ার করতে পেরেছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, এবার ছাত্রদের থেকে এক লাখ ৮৯ হাজার ৮০১ জন বেশি ছাত্রী সমাপনীতে অংশ নেবে। এটা আশাব্যঞ্জক যে মেয়েরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। যত প্রকার ছিদ্র এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে, যে ছিদ্রগুলো দিয়ে পানি আসতে পারে, সবটাই বন্ধ করার আমরা চেষ্টা করছি।
সরকার সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। প্রাথমিক সমাপনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, (প্রাথমিক সমাপনী) এই পরীক্ষাটি ততদিন চলিবে, যতদিন সরকার এই সিদ্ধান্ত না বদল করিবে। সরকারি সিদ্ধান্তের উপর এই পরীক্ষাটা হওয়া-না হওয়া নির্ভর করছে। এখন পর্যন্ত এটা বন্ধ করবার বা এই দুটি পরীক্ষাকে একত্রিত করে একটা পরীক্ষা নেওয়ার আগে কথাবার্তা হয়েছিল এখন পর্যন্ত সেই নির্দেশনা আসেনি।
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে চালাতে শিক্ষা বোর্ড গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষা বোর্ড নেই। এই পরীক্ষা যদি চিরস্থায়ী হয়, সেটাকে কনডাক্ট করার জন্য আমাদের একটা বোর্ডের আবশ্যকতা বড় করেই দেখা দেবে।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়ীতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেয়া হচ্ছে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে গত বছর থেকে দেশের ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী নিচ্ছে সরকার।
প্রাথমিক সমাপনীর সূচি: ১৯ নবেম্বর ইংরেজি, ২০ নবেম্বর বাংলা, ২১ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নবেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৩ নবেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৬ নবেম্বর গণিত।
ইবতেদায়ী সমাপনীর সূচি: ১৯ নবেম্বর ইংরেজি, ২০ নভেম্বর বাংলা, ২১ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২২ নবেম্বর আরবি, ২৩ নবেম্বর কুরআন ও তাজবিদ এবং ২৬ নবেম্বর গণিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ