ঢাকা, শুক্রবার 17 November 2017, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন আসছে পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধু অন্তর্ভুক্তি

সংসদ রিপোর্টার: প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোচিং বাণিজ্য। কোচিং সেন্টারগুলো থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সম্ভাবনা বেশী থাকে। সে কারণে আমরা কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি, কিন্তু কোন আইন না থাকায় শুধু শুধু এসব কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে আমরা সংসদে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি আইন আনতে চলেছি। এটি পাস হলে আশা করি প্রশ্নপত্র ফাঁস অনেকটা রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফজিলাতুন নেসা বাপ্প্ িএমপির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমপি কামাল আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শি´ামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে,  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন-১৯৮০ (সংশোধিত-১৯৯২) এর ধারা ৪ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধীকে ৪ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে এরূপ কাজের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করছে। এছাড়া যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে অপপ্রচার চালায় তাদের বিরুদ্ধে ইতমধ্যে মামলা করা হয়েছে।

এসময় মন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা। যার মধ্যে রয়েছে- প্রশ্নপত্র প্রণেতা সংশ্লিষ্ট বোর্ডে উপস্থিত থেকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হবে না এমন অঙ্গিকার নামায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের  সাক্ষর নেয়া হচ্ছে, মডারেশন কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, বিজি প্রেসে মূদ্রণে কর্মরত কর্মীদের গোয়েন্দা নজরদারীতে রাখা  হয়েছে, শিক্ষকদের নৈকিতা ও সততার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, কোচিং সেন্টারের উপর নজরদারী বাড়ানো হচ্ছে, এ বিষয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা সিমিত রাখা, দুরবর্তী কেন্দ্র বাতিল বিষয়ে নিদেৃশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার,উপজেলা নির্বাহী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন ঘটনা ঘটলে তাংক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, ক্লাস রুম বা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তবে যদি কেউ  মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করেন তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে পরীক্ষার হলে কোন ভাবেই মোবাইল ফোন নেয়া যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে একটি নন স্মার্ট মোবাইল সেট (ফটোঅপশন বাদে) অফিস কক্ষে রাখা যাবে বলেও জানান তিনি। 

পরিবেশ নেই তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা যাচ্ছে না

জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বিদ্যালয়-কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার মত পরিবেশ নেই এ অযুহাতে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করতে রাজি না হওয়ায় সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমি গিয়ে জোর করে নির্বাচন করতে চাপ সৃষ্টি করতে পানি না। সেটা সঙ্গতও নয়। তবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় সেখানে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না, মেধাবী রাজনীতিক উঠে আসছে না বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পাকিস্তান আমলে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পরিবেশ থাকার কারণে সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো। স্বাধীনতার পরেও সম্ভব ছিল । কিন্তু ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে দেশে  কালাকানুন চালু হয়, সেনা শাসন, স্বৈরাচারী সরকারের কারণে বিশ্ব বিদ্যালয়ের গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এখনো পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় নির্বাচন করতে চাচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের সিন্ডিকেট বা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা অটোনোমাস বডি, আমি তাদের নির্দেশ দিতে পারি না। তারা যদি মনে করেন পরিবেশ উন্নতি হয়েছে তা হলে নির্বাচন দিতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিন্ডিকেট পরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। এবিষয়ে আমার কিছু করার নেই। 

তিনি বলেন, এখানে ছাত্র-ছাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নির্বাচন করার মত পরিবেশ সৃষ্টির মানসিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়াঙ্গনে গণতন্ত্র চর্চা উন্নয়নের চেষ্টা করা আহ্বান জানান নাহিদ।

জাতীয় পার্টির এমপি জিয়া উদ্দিন বাবলুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, কলেজগুলোতে নির্বাচন মাঝখানে বাধাগ্রস্থ হচ্ছিল। তবে তা এখন অনেকটা কেটে গেছে। আমি মন্ত্রী বলে জোর করে কোন কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাপিয়ে দেব তা বাস্তব সম্মত নয়। আমাদের এমপিরা প্রায় অধিকাংশ কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তারা  এবং কলেজ পরিচালনপর্যদ যদি মনে করেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার মত পরিবেশ রয়েছে তা হলে তারা করবেন। এতে বাঁধা দেবার বা অনুমতি দেবার কিছু নেই। কোন কোন কলেজে তো নির্বাচন হয়েছে বা হচ্ছে। তবে নির্বাচন চাপিয়ে দেবার বিষয় নয়, আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন হতে হয়। সেটি অনেক কলেজে এখনো আসে নি। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসি বা কলেজের প্রিন্সিপাল করার জন্য এমপি মহোদয়দের যে তৎপরতা দেখি তার এক ভাগও যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য তারা ব্যয় করতেন  তাহলে হয়তো ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা সম্ভব হতো। তবে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যারয় বা কলেজ কতৃপক্ষের উপর নির্ভরশীল, তারা যদি মনে করেন  নির্বাচন করার মত পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা হলে নির্বাচন দিতে পারেন।  গণতন্ত্র উন্নয়নের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধুর গৌরবময় ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত

প্রাক-প্রাথমিক থেকে একাদশ দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বের গৌরবময় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা ও প্রামাণ্য সচিত্র বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল সংসদে মহিলা আসন ৩০ এর এমপি ফজিলাতুন নেসার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কতৃক প্রণীত ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম-দশম শ্রেণীর বিভিন্ন ্রবিষয়ের পাঠ্যপুস্তকে এবং একাদশ-দ্বাদশ শেণীর আবশ্যিক বাংলা ও ইংরেজি প্রভৃতি পাঠ্যপুস্তকে  বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান নাহিদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ