ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিলেটকে হারিয়ে রাজশাহীর দ্বিতীয় জয়  

স্পোর্টস রিপোর্টার : সিলেটকে হারিয়ে বিপিএলে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে রাজশাহী কিংস। গতকাল রাজশাহী কিংস ৭ উইকেটে হারায় সিলেট সির্ক্সাসকে। এটা পঞ্চম খেলায় রাজশাহীর দ্বিতীয় জয়। এই  জয়ে  ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চমস্থানে উঠে এলো দলটি। আর সপ্তম ম্যাচে তৃতীয় হারে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকলো সিলেট। মিরপুর স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় রাজশাহী। আর ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে দলটি করে ১৪৬ রান। জয়ের জন্য ১৪৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ৩ উইকেটে ১৫০ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ৭ উইকেটে। তরুন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান জাকির হোসেনের ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সাথে ওপেনার মোমিনুল হকের ৪২ রানের সুবাদে গতবারের রানার-আপ রাজশাহী কিংস সহজে জয় পায়। ম্যান অবদ্য ম্যাচের পুরস্কার পান জাকির হোসেন। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সিলেট। ১৮ রানের মধ্যে দলের দুই ওপেনার শ্রীলংকার উপুল থারাঙ্গা ১০ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার শূন্য রান করে বিদায় নেয়। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে চার নম্বরে নামেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ১১ বলে ১০ রান করে ফিরেন। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক নাসির হোসেনও। মাত্র ৯ রান করেন। দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মাঝেও সিলেটের রানের চাকা সচল ছিল। কারণ অন্যপ্রান্তে স্কোর বোর্ড সচল রাখেন শ্রীলংকার গুনাথিলাকা। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেন গুনাথিলাকা। এসময় সিলেটের রান ছিলো ৭১। অর্থাৎ ওভারপ্রতি রান ছয়ের নীচে। এমন অবস্থায় সিলেটকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান সাব্বির রহমান ও ইংল্যান্ডের টিম ব্রেসনান। বেশ দক্ষতার সাথেই দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৮ বলে ৬৯ যোগ করেন তারা। এতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় সিলেট। সাব্বির ১টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কায় ২৬ বলে ৪১ রান করেন। অন্যপ্রান্তে ব্রেসনান ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন। রাজশাহীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় কেসরিক উইলিয়ামস ৩২ রানে ২ উইকেট নেন। জয়ের জন্য ১৪৭ রানের টার্গেটে শুরুটা দারুণ ছিলো রাজশাহীর। উদ্বোধণী জুটিতে ৬৫ রা যোগ করে রাজশাহীর জয়ের পথটা সহজ করে তোলেন দুই ওপেনার মোমিনুল হক ও রনি তালুকদার। দু’জনে ৫১ বল মোকাবেলা করে ৬৫ রান যোগ করেন। ২৪ রান করা রনিকে ফিরিয়ে সিলেটকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন অধিনায়ক নাসির। রনির বিদায়ের পরের ওভারে সিলেটকে আবারো উইকেট শিকারের আনন্দে ভাসান বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার নাবিল সামাদ।

তিন নম্বরে নামা ইংল্যান্ডের সামিত প্যাটেলকে ১ রানের বেশি করতে দেননি নাবিল। ৬৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ভড়কে যায়নি রাজশাহী। তরুণ জাকির হোসেন ও মোমিনুল হকের ব্যাটে চড়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো তারা। মাত্র ৩ ওভার মোকাবেলা করে ৩১ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ৯৭ রানে বিদায় ঘটে মোমিনুলের। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪২ রান করেন মোমিনুল। এরপর অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীকে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ এনে দেন জাকির ও মুশফিকুর রহিম। ৪টি চার ও ৩টি দর্শনীয় ছক্কায় ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন ১৯ বছর বয়সী জাকির। অন্যপ্রান্তে ২০ বলে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :  

সিলেট সির্ক্সাস : ১৪৬/৬, ২০ ওভার (সাব্বির ৪১, গুনাাথিলাকা ৪০, উইলিয়ামস ২/৩২)।

রাজশাহী কিংস : ১৫০/৩, ১৭.৩ ওভার (জাকির ৫১*, মোমিনুল ৪২, আবুল ১/১৭)।

ফল : রাজশাহী কিংস ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : জাকির হোসেন (রাজশাহী কিংস)।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ