ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

থামছেই না প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা

সামছুল আরেফীন : দেশে যেন থামছেই না প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। পিএসসি, জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি, এইচএসসি, চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, এমন কোনো পরীক্ষা নেই, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায়ও এখন এটি ঘটতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া জেএসসি পরীক্ষায়ও প্রায় প্রতিদিনই প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়া গেছে। 
১ নবেম্বর থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই পরীক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। এবার ৩০ মিনিট আগে হলে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায়নি।
গত বুধবার (৯ নবেম্বর) অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসেরও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ১ নবেম্বর বাংলা প্রথম পত্র, ২ নবেম্বর বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ৫ নবেম্বর ইংরেজি প্রথম পত্র, ৬ নবেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র, ৭ নবেম্বর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এবং অন্য ধর্ম, ৮ নবেম্বর বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সব পরীক্ষারই প্রশ্নপত্র পরীক্ষার অন্তত এক ঘণ্টা আগেই পাওয়ার খবর বেড়িয়েছে। মুঠোফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে এসব প্রশ্ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নের সমাধানও পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও মুঠোফোনে এসব প্রশ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠে। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হয়। আর আজ শনিবার অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের চারু ও কলা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হবে এই পরীক্ষা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এবার প্রশ্নপত্রের এমসিকিউ অংশের বেলায় এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে দেখা গেছে, কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগ মুহূর্তে কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। পরে ওই সব প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। জেএসসির ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিতসহ কয়েকটি পরীক্ষায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অ্যাপের (ম্যাসেঞ্জার, ভাইভার, হোয়াটসঅ্যাপ) সাহায্যে পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এগুলোর সঙ্গে মূল প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে বলে তাদের অভিযোগ।
এর আগেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্র থেকে কিছু অসাধু শিক্ষক মুঠোফোনে ছবি তুলে প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠিয়ে দিতেন। তারপর পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ছবিগুলো ছড়িয়ে দিতেন বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে। এ জন্য এখন পরীক্ষা কেন্দ্রে ছবি তোলা যায়, এমন মুঠোফোন (স্মার্টফোন) নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও প্রশ্নপত্র ফাঁস থামছে না।
তবে শুধু জেডিসি বা জেএসসি নয়, সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায়  প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরে ঢাকা, জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাজমুল।
একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস: বর্তমান সরকারের সময়ে একের পর এক ফাঁস হচ্ছে পাবলিক ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিকেল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার  অভিযোগ পাওয়া যায়। পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এর সাথে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কিছু নেতাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতিতে সবকিছুর পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসেও এসেছে আধুনিকায়ন, ফাঁসের ধরনেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। পূর্বের প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি এখন প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ঘড়ি ও ইন্টারনেট। এসব অপরাধ বিষয়ে আইন থাকলেও সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না তারা। ফলে আইনের ফাঁকফোকর এবং সরকারি ছত্রছায়ায় তাদের সমর্থক শক্তিশালী সিন্ডিকেটচক্র সব সময়ই শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। এতে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েই চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এই আমলে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিকেল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ও অভিযোগ পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয় সূত্র, বিশিষ্টজন ও চাকরি প্রার্থীদের মতে, বর্তমান সরকরের সময়ের মতো অতীতে এত বেশি ও গণহারে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। ২০১৪ সালের ৩১ মে ফাঁস হয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার পর ১২ জুন ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষা বাতিল হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার তিনটি সেটের সবটাই ফাঁস হয়। এ ঘটনায় ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেটের কয়েক জনকে গ্রেফতার ও তদন্ত কমিটিও করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেট চক্রটি আইনের ফাঁকফোকরে পার পেয়ে যায়।
২০১০ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। এতে ওই পরীক্ষা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ২০১০ সালের ৮ জুলাই সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ২০১০-১১ সালে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সিন্ডিকেট চক্রের ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
২০১১ সালে অডিট বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই খাদ্য অধিদফতরের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২৭ জুলাই জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে পুরান ঢাকার একটি হোটেল থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নসহ ১৬ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১২ বছরের ৩ আগস্ট জতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় হলের প্রশ্নের শতভাগ মিলে গেলেও ওই পরীক্ষা বাতিল বা তদন্ত হয়নি। একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই এটিরও প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষার আগের রাতে এবং পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে।
২০১২ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ৩৩তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সব কোর্সের প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর পিএসসি পরীক্ষা স্থগিত করে। ওই বছরের ২১ ও ২২ নবেম্বর শিশু শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার (পিএসসি) গণিত ও বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হওয়ার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ১২ অক্টোবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও অভিযোগ ওঠে। ১২ ও ১৯ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। একইভাবে ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হল থেকে ফাঁস হয়। সেই প্রশ্নপত্র দিয়ে একটি সিন্ডিকেট তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধদের উত্তর ঘড়ি সদৃশ মোবাইলে পাঠায়। এর সঙ্গে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগ কর্মীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে ছাত্রলীগ কর্মীদের ছেড়ে দেয়া হয়।  ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ইংরেজি, বাংলা, গণিতসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। প্রতিটি পরীক্ষার আগে চারটি করে সেট বের হয়। প্রতিটি সেটের একেকটি অংশ করে চারটি সেটেই শতভাগ কমন পাওয়া যায়। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী ১৯৭৯ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়।
আওয়ামী লীগের আগের আমলেও প্রশ্ন ফাঁস: ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলোচিত এসএসসি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নও দুইবার ফাঁস হয়েছে। ১৯৯৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কারও শাস্তি হয়নি। ১৯৯৯ সালে আবার এসএসসি পরীক্ষার আগে ভোলার একটি কেন্দ্র থেকে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল করে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু কারও শাস্তি হয়নি। এছাড়া ওই আমলে বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ