ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উগ্র বৌদ্ধদের দয়া নিয়ে স্বদেশে থাকতে হবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের

কামাল হোসেন আজাদ : স্বদেশে এবার সবচেয়ে স্বাধীনচেতা রোহিঙ্গা মুসলমানদের থাকতে হবে বৌদ্ধদের দয়া-অনুকম্পা নিয়ে। ভীনদেশী প্রমাণ করতে যে কোন সময় সেই দয়া নিতেও কৌশলী বর্মী প্রশাসন বাধ্য করবে রোহিঙ্গাদের। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ ধর্মানুসারি উগ্রপন্থীরা মুসলমানদের গ্রহণ করা না করার প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যটিতে।   
সূত্রে প্রকাশ, আরাকানে বসবাসরত সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা মেনে না নিলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেরত নেয়া হবে না জানিয়েছেন নতুন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। তার এই বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে বার্মার সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি সূত্রে এ খবর প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরতের বিষয়টি যে বেশ দীর্ঘায়িত হবে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, আরাকানে বসবাসরত বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি মেনে না নিলে তাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত আনা হবে না। রাখাইন বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের ঘৃণা করে। সরকারের লেলিয়ে দেয়া বৌদ্ধরা  রোহিঙ্গাদের ঘরে আগুনও দিয়েছে। তাই উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা চায় না যে রোহিঙ্গারা আরাকানে ফেরত আসুক। সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী দলে দলে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা মিয়ানমারে ঢুকবে এ ধরনের প্রস্তাব মেনে নেয়া হবে না।’ বাংলাদেশে পরিবারসহ পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
রোহিঙ্গা মুসলমানেরা যেভাবে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকেছে ঠিক সেভাবে তাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাবের পরই এ বিষয়ে মুখ খুললেন সেনাপ্রধান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বার্মা ও বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করে আসছে।
গত ২৫ আগস্ট থেকে আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করে বার্মার সশস্ত্র বাহিনী। এর ফলে অন্তত ছয় হাজার মুসলমান নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে ছয় লাখের রোহিঙ্গা মুসলমান বার্মার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্মী বাহিনী আরাকানে সহিংসতা বন্ধের দাবি করলেও এখনো সেখানে প্রতিনিয়ত নীপিড়ন চালাচ্ছে তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ