ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নয় ষড়যন্ত্রের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ যদি দেশে উন্নয়নের জোয়ার এনে থাকে, তারা যদি এতই জনপ্রিয় দল হয় তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্যাচন দিতে এত ভয় কেন এমন প্রশ্ন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায় সরকার না চাওয়াতেই বোঝা যাচ্ছে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়, ষড়যন্ত্রের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মওলানা ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এ  আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে চাইলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে  তা প্রতিহত করা হবে। সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সংবিধান কোনো বাধা নয়, সংবিধান পরিবর্তন না করার জন্য এটাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নাটক করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আর বাংলার মাটিতে হবে না, এমন নির্বাচন করতে গেলে এবার বাংলার সাধারণ জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। সেনা মোতায়েন ছাড়া নির্বাচন করতে চাইলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ আ.লীগ সরকারকে প্রতিহত করে দেশে জনগণের সরকার গঠন করা হবে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল একদলীয় নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, তখন খালেদা জিয়া সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাহলে এখন কেন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া ক্ষমতায় যাবে। আর বিএনপি পারলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় সংকট দূর করতে চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন আসছে, কারণ সরকারবিরোধী দলকে বিশ্বাস করে না, আর বিরোধী দল সরকারকে বিশ্বাস করে না। আমরা চাই সভ্যতার চর্চা হোক, কিন্তু ক্ষমতাসীন দলকে মনে রাখতে একদলীয়ভাবে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে, সেই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে।
মওদুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বলছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে, সেই ব্যবস্থাই তারা করেছে। আমি বলতে চাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে, তা ছাড়া কোনো নির্বাচন এই দেশে হবে না। আগামী নির্বাচনে সরকারের এই অনৈতিকতা, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসাব আগামী নির্বাচনে দেবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ৯৬ সালেও নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলেছিল বিএনপি। তখন এই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে খালেদা জিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই রকম সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে জাতি চিরদিন শেখ হাসিনাকে স্মরণ করবে।
আলোচনা সভায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিংকন, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ